ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া

ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া এবং কোনদিন কোন বন্ধ থাকে ইত্যাদি জানতে নিচের লেখাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।
আসলে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটগামী ৬টি ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। বিভিন্ন নামে এবং ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চলাচলকারী এইসব ট্রেনগুলোর তালিকা, সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য জানাটা অতীব প্রয়োজন।

সূচিপত্রঃ ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা
ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের টিকিটের মূল্য
জয়পুরহাট টু ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সাপ্তাহিক বন্ধ
ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের ষ্টপেজসমূহ
কিভাবে আপনার ট্রেনের অবস্থান জেনে নিবেন
অনলাইনে যেভাবে ট্রেনের টিকিট কাটা যায়
ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া-শেষ কথা

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনের তালিকাঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে প্রতিদিন মোট ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিতভাবে চলাচল করে থাকে। বিভিন্ন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ৬টি ট্রেন প্রতিদিন ঢাকা থেকে জয়পুরহাটসহ অন্যান্য ষ্টেশনে যাতায়াত করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ রাজশাহী টু কমলাপুর স্টেশন আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া

ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া বিষয়ক আলোচনায় আন্তঃনগর ট্রেনগুলির গন্তব্যস্থল যে শুধুমাত্র জয়পুরহাট তা কিন্তু নয়, তবে যাত্রাপথে জয়পুরহাট ষ্টেশনে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করে থাকে। নিম্নে এই ৬টি ট্রেনের নাম, ট্রেন নম্বর বর্ণিত হলোঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের সময়সূচীঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচল করে থাকে ৬টি ট্রেন। অর্থাৎ এইসব ট্রেনগুলি বিভিন্ন সময়ে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রা করে। আর এই যাত্রাপথেই তারা জয়পুরহাট স্টেশনেও হল্ট/থামে। আসলে ট্রেন যাত্রার বিশেষত্ব হলো এটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সর্বোপরি আমাদের দেশের সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খরচ সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম। আর বলাই বাহুল্য যে, আমাদের কৃষ্টি-কালচার বা গ্রাম বাংলায় বেড়ে ওঠার সাথে ট্রেনের একটি আত্মিক যোগসূত্রও রয়েছে। যাইহোক, নিম্নে এসব ট্রেনের সময়সূচী ছক আকারে বর্ণিত হলোঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের টিকিটের মূল্যঃ

মূলত ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলি প্রত্যেকটিই আন্তঃনগর ট্রেন এবং যাতায়াতের দূরত্বও অনেক, তাই এসব ট্রেনগুলিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের জন্য বিভিন্ন ধরণের আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সুতরাং সকলের প্রতি লক্ষ্য রেখেই বাংলাদেশ রেলওয়ে এইসব ট্রেনগুলিতে নানা ধরণের আসনের বিন্যাস তৈরি করে রেখেছেন। যা অতি উচ্চ মূল্য, মাঝামাঝি এবং অতি নিম্ন মূল্য। সর্বোপরি বিভিন্ন সময়ের আবর্তে বা নানাবিধ কারণে এইসব আসন ভাড়া বা টিকিটের মূল্যেরও কম-বেশী হয়ে থাকে। যাইহোক, নিম্নে বিভিন্ন ট্রেনের আসন ভাড়া বা টিকিটের মূল্য ছক আকারে প্রদর্শিত হলোঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সাপ্তাহিক বন্ধঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী প্রতিটা ট্রেনই যে সপ্তাহে বন্ধ থাকে, তা কিন্তু নয়। আবার চলাচলকারী সবগুলো ট্রেনই যে, ধারাবাহিক ভাবে বন্ধ থাকে তাও কিন্তু নয়। আসলে ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন ট্রেন কোনদিন বন্ধ থাকে। অর্থাৎ ট্রেনের তথ্যগুলি পুরোপুরি জানা থাকলে হয়রানি কম হতে হয়। তাই নিম্নে ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছক আকারে বর্ণিত হলোঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের ষ্টপেজসমূহঃ

নীলসাগর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস
ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলির মধ্যে যেমন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন। এই আন্তঃনগর ট্রেনটি ঢাকা থেকে ৬.৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে যাত্রা পথে মোট ৮টি ষ্টেশনে সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে দুপুর ১.১১ মিনিটে জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছায়। নীলসাগর এক্সপ্রেসে যাত্রাবিরতি স্টেশনগুলো হলোঃ ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, ইব্রাহীমাবাদ, মূলাডুলি, নাটোর, আহসানগঞ্জ, সান্তাহার এবং আক্কেলপুর স্টেশন।

চিলাহাটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস
ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের আরেকটি হলো চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন। এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকাল ৫.০০ টায় যাত্রা শুরু করে পথিমধ্যে প্রায় ৫টি স্টেশনে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে রাত্রি ১১.৪১ মিনিটে জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছায়।

পঞ্চগড় আন্তঃনগর এক্সপ্রেস
এই ট্রেনটি সপ্তাহে প্রতিদিনই ঢাকা থেকে জয়পুরহাট রুটে চলাচল করে থাকে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে রাত্রি ১১.৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে পথিমধ্যে প্রায় ১০টি যাত্রা বিরতির মাধ্যমে ভোর ৫.১৬ মিনিটে জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাপথের এই বিরতি স্টেশনগুলি হলো-ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব, শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, উল্লাপাড়া, বড়ালব্রীজ, আজিমনগর, নাটোর, সান্তাহার ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ রাজশাহী হতে খুলনা ট্রেনের সময়সূচি ভাড়া ও ষ্টপেজসমূহ

একতা আন্তঃনগর এক্সপ্রেস
একতা আন্তঃনগর ট্রেনটিও প্রতিদিন ঢাকা থেকে সকাল ১০.১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পথিমধ্যে প্রায় ৯টি স্টেশনে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে বিকাল ৪.৪৯ মিনিটে জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছায়।

কিভাবে আপনার ট্রেনের অবস্থান জেনে নিবেনঃ

সাধারণত ট্রেন ভ্রমণে যারা প্রতিদিনই যাতায়াত করে থাকে, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু অনেকেই আছে, যারা সেই রুটে নতুন। আবার এমন অনেকে আছেনা, যারা শখের বশবর্তী হয়ে ট্রেন ভ্রমণ করে থাকেন। সে যাইহোক, আমাদের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো আমি যে ট্রেনটিতে যাবো সেটি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে তা জানাটা আমার ভীষণ দরকার। আবার আমি ট্রেনের কোন এক কামরায় অবস্থান করছি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যাবো বলে, কিন্তু বর্তমানে আমার ট্রেনটি কোথায় অবস্থান করছে বা আমার গন্তব্যস্থল যেতে আর কতক্ষণ সময় লাগতে পারে ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে আপনি পাশে বসা কাউকে জিজ্ঞেস না করেই হাতে থাকা একটি মোবাইল ফোন, হোক সেটা বাটন ফোন বা স্মার্ট ফোন তাতে কোন সমস্যা নেই। আপনি ইচ্ছে করলেই নিজের সীটে/স্টেশনে থাকাবস্থায় জানতে পারবেন বর্তমানে ট্রেনের প্রকৃত অবস্থান কোথায়? অর্থাৎ বর্তমানে ট্রেনটি কোন স্টেশন ছেড়েছে বা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে TR<space>৭৬৬ বা ৭৯৪ লিখে পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ব্যস ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের অবস্থান সর্ম্পর্কে জানতে পারেন।

এ ছাড়াও আপনার মোবাইলে যদি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তাহলেও গুগল অ্যাপসের মাধ্যমেও আপনি দেখে নিতে পারেন যে, বর্তমানে আপনার ট্রেনটি কোথায় অবস্থান করছে, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে আর কতক্ষণ সময় লাগবে বা কতগুলি ষ্টেশন আর বাকি আছে ইত্যাদি। সবসময় মনে রাখবেন, যখনই আপনি নিজ এরিয়া পরিত্যাগ করে অন্যত্র যাবেন, তখন অবশ্যই নিজের বিচার-বুদ্ধি-বিবেচনা বা উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ করতে হয়।

অনলাইনে যেভাবে ট্রেনের টিকিট কাটা যায়ঃ

বর্তমানে অনেকেই দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটে থাকে। অনলাইনে টিকিট কেন কাটবেন? আসলে যখন আপনার যাত্রা দূরপাল্লার হয়ে থাকে, তখন অগ্রিম টিকিট ক্রয় করে না রাখলে ভালো আসন/সীট পাওয়া যায়। তাই এক্ষেত্রে আপনার বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে। মোট কথা, অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে আরম্ভ করে কিভাবে টিকিট ক্রয়, মূল পরিশোধ ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম-এ লিংকে ক্লিক করুন।

ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া-শেষ কথাঃ

ঢাকা টু জয়পুরহাট রুটে মোট ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে। এইসব ট্রেনগুলো বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করে থাকে। আশাকরি আজকের ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া বিষয়ক আর্টিকেল থেকে ইতিমধ্যেই বুঝতে ও জানতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আপনাদের ঢাকা টু জয়পুরহাট আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক হবে বলে মনে করি। আসলে ট্রেনযাত্রা হলো বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের সমন্বয়। যার ফলে নিজের সতর্ক থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন। কারণ রেলওয়ে নিরাপদ ভ্রমণ, সময়ানুবর্তিতা, সাশ্রয়ী ইত্যাদি বিষয়গুলির নিশ্চয়তা দিচ্ছে, কিন্তু জানমালের নিরাপত্তা তো আর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দিবেনা, তাই রেলপথে যাত্রাকালে নিজের একটু বাড়তি সচেতন থাকা অত্যাবশ্যক।

আরও পড়ুনঃ রাজশাহী হতে রহনপুর ট্রেনের সময়সূচি ভাড়া ও ষ্টপেজসমূহ

সুতরাং,আজকের ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সহ নানা বিষয়ের তথ্যগুলি আপনাদের ভালো লেগে থাকে বা প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়, তাহলে তা অন্যদেরও শেয়ার করতে পারেন। মোট কথা ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া বিষয়ক সমস্ত তথ্য যদি আপনার জানা থাকে আপনার ট্রেনযাত্রা সুন্দর ও মসৃণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত ঢাকা হতে জয়পুরহাট রুটে মোট ৬টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি মূলত বিভিন্ন শহর, জেলা ও বিভাগকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার দায়িত্বই পালন করছেনা, বরং অনেক স্বল্প আয়ের মানুষকেও দিচ্ছে নিরাপদ এবং খরচ সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুবিধা। তাই আজকের আলোচনায় আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তরোত্তর সফলতা বৃদ্ধি কামনা করছি। সবশেষে আজকের ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া বিষয়ক আলোচনায় আপনার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mithu Sarker
Mithu Sarker
আমি মিঠু সরকার, দুই বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আসছি। ব্লগ পোস্ট, ওয়েব কনটেন্ট ও মার্কেটিং রাইটিংয়ে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মানসম্মত ও পাঠকবান্ধব লেখার মাধ্যমে অনলাইন সফলতা গড়াই আমার লক্ষ্য।