ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া এবং সাপ্তাহিক বন্ধসহ নানা বিষয়ে জানতে নিজের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
মূলত ঢাকা টু কুমিল্লায় চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনগুলি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। আর এইসব ট্রেনগুলির অনেকগুলো সাপ্তাহিক বন্ধও থাকে। তাই সমস্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি জানতে নিচের তথ্যগুলি এক ঝলক দেখে নিতে পারেন।
সূচিপত্রঃ ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের নম্বর ও তালিকা সমূহঢাকা হতে কুমিল্লা ট্রেনের বিভিন্ন সময়সূচি
ঢাকা হতে কুমিল্লাগামী ট্রেনগুলির আসনের ধরণ ও টিকিট মূল্য
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকা
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনগুলির ষ্টপেজ ষ্টেশনগুলি
ট্রেনের অবস্থান যেভাবে জানবেন
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার প্রক্রিয়াসমূহ
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া-শেষ কথাঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের নম্বর ও তালিকা সমূহঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা রুটে মোট ৯টি ট্রেন চলাচল করে থাকে। এদের মধ্যে আন্তঃনগর এবং লোকাল/মেইল ট্রেনও আছে। অর্থাৎ এইসব ট্রেনগুলি ছাড়া ও পৌঁছানোর সময়ও ভিন্ন ভিন্ন।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা হতে যশোর ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া
বলাই বাহুল্য যে, ঢাকা টু কুমিল্লা রুটে চলাচল একটি দীর্ঘ ভ্রমণ, তাই এসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই যদি জানা থাকে যে, কোন ট্রেনটি আন্তঃনগর বা কোন ট্রেনগুলি লোকাল/মেইল ইত্যাদি। তাহলে যাত্রাপথের পূর্বপরিকল্পনা করতে অনেক সহায়ক হয়ে থাকে। সুতরাং নিম্নে ঢাকা টু কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনের তালিকা ও ট্রেনের নম্বর ছক আকারে বর্ণিত হলোঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা ট্রেনের বিভিন্ন সময়সূচিঃ
এই রুটে মোট ৯টি ট্রেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে যাত্রা করে থাকে। আবার এরই মধ্যে কিছু লোকাল/মেইল ট্রেনও আছে। সুতরাং ট্রেন যাত্রায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই ট্রেনের সময়সূচি জানাটা ভীষণ দরকারী এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর তাছাড়া প্রতিটা যানবাহনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কিন্তু সময়টা একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। যাইহোক নিম্নে ট্রেনের নাম অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার এবং পৌঁছানোর সময় বর্ণিত হলোঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লাগামী ট্রেনগুলির আসনের ধরণ ও টিকিট মূল্যঃ
আসলে ঢাকা হতে কুমিল্লাগামী ট্রেনগুলির ভিন্ন ভিন্ন আসন ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী টিকিটের মূল্যেরও তারতম্য ঘটেছে। অর্থাৎ এসি, বার্থ, নন-এসি, সাধারণ শ্রেণী ইত্যাদি। অর্থাৎ ট্রেন যাত্রা হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের জন্য। তাই বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনগুলিতে আসনের ধরণ এবং অতি সুবিধা প্রদান হিসেবে বিভিন্ন উচ্চমূল্যেরও টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, যার যেমন সামর্থ্য, তিনি ঠিক তেমনটাই আসন বেছে নিবেন-সম্ভবত এমনটা ভাবনা থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরণের আসনের ব্যবস্থা করেছেন। নিম্নে আসনের ধরণ এবং টিকিটের মূল্য ছকের মাধ্যমে বর্ণিত হলোঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকাঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লাগামী বেশকিছু ট্রেন ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ভাবে বন্ধ থাকে। আসলে এসব ক্ষেত্রে সমস্যা হয়, যারা অনিয়মিত যাতায়াত করে তাদের জন্য। কারণ যে সকল যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে, তারা তো বিষয়টি জেনেই ভ্রমণ করেন, কিন্তু সমস্যায় পড়ে যারা অনিয়মিত যাত্রা করেন তাদের জন্য। সুতরাং ট্রেনে ভ্রমনের পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে যে কোন ট্রেন কোনদিন বন্ধ থাকে। আর এতদসংক্রান্ত কারণেই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের তালিকাটি নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনগুলির ষ্টপেজ ষ্টেশনগুলিঃ
মূলত ঢাকা হতে কুমিল্লা রুটে যে সমস্ত ট্রেন চলাচল করে থাকে, প্রতিটা ট্রেনেরই নির্দিষ্ট ষ্টেশন হল্ট বা ষ্টপেজসমূহ রয়েছে। অর্থাৎ ট্রেনপথে যাত্রাকালে এসব ষ্টেশনগুলি জানা থাকলে আপনার যাত্রাপথে অনেক সুবিধা বয়ে আনে। তাই নিম্নে এসব ট্রেনের ষ্টপেজ ষ্টেশনগুলি ট্রেনের নামানুযায়ী বর্ণিত হলোঃ
ঢাকা হতে কুমিল্লা যাওয়ার সময় তুর্ণা এক্সপ্রেস ৭৪১ নম্বর ট্রেনটি মোট ৪টি ষ্টেশনে থামে। যেমন-ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী এবং কুমিল্লা।
আবার তূর্ণা এক্সপ্রেস ৭৪২ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর ষ্টেশন থেকে বিমানবন্দর, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আকাউড়া এবং কুমিল্লা জেলাতে পৌঁছায়ে।
মহানগর প্রভাতী ৭০৪ নম্বর ট্রেনটি কমলাপুর থেকে ছেড়ে এসে বিমানবন্দর, গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া হয়ে কুমিল্লা জেলায় প্রবেশ করে থাকে।
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২২ নম্বর ট্রেনটি কমলাপুর ষ্টেশন থেকে ছেড়ে প্রথমে বিমানবন্দর ষ্টেশন, গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা হয়ে কুমিল্লা জেলায় পৌঁছে থাকে।
উপকূল এক্সপ্রেস ৭১২ নম্বর ট্রেনটি কমলাপুর ষ্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর, গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা হয়ে কুমিল্লা এবং নোয়াখালী জেলায় পৌঁছে থাকে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা টু জয়পুরহাট ট্রেনের তালিকা সময়সূচী ও ভাড়া
চট্টালা এক্সপ্রেস ৮০২ নম্বর ট্রেনটি কমলাপুর ষ্টেশন থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর, নরসিংদী, মেথিকান্দা, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, শশীদল হযে কুমিল্লা জেলায় পৌঁছে থাকে।
ট্রেনের অবস্থান যেভাবে জানবেনঃ
ট্রেনে ভ্রমণকালে অনেক সময় ট্রেনের অবস্থান অথবা বর্তমানে কোন ষ্টেশনে ট্রেনটি আছে বা এরপরের ষ্টেশন কোনটি অথবা ট্রেনটি আসতে বিলম্ব হওয়ায় বর্তমানে ট্রেনটি কতদূর আছে ইত্যাদি জানা বা প্রশ্নগুলির উত্তর জানাটা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ ট্রেনের লাইন ক্লিয়ার/সিগন্যাল না পাওয়া/ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কিন্তু মাঝে মধ্যেই ট্রেন আসতে বা ষ্টেশন থেকে ছাড়তে দেরী হয়। সেক্ষেত্রে একটি বিষয় চলে আসে, তা হলো বর্তমানে ট্রেনটি কোথায় অবস্থান করছে এটা জানা। আবার গুগল অ্যাপস ব্যবহার করেও ট্রেনের কোথায় অবস্থান অনায়াসে জেনে নিতে পারেন। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে আপনার হাতে থাকা একটি মোবাইল ফোন, হোক সেটা বাটন ফোন বা স্মার্ট ফোন তাতে কোন সমস্যা নেই। আপনি ইচ্ছে করলেই নিজের সীটে/স্টেশনে থাকাবস্থায় জানতে পারবেন বর্তমানে ট্রেনের প্রকৃত অবস্থান কোথায়? অর্থাৎ বর্তমানে ট্রেনটি কোন স্টেশন ছেড়েছে বা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে অথবা ইন্টরনেট সংযোগের মাধ্যমে গুগল অ্যাপস ব্যবহার করেও আপনার গন্তব্যস্থল যেতে সামনে আর কতোগুলি ষ্টেশন আছে, বা কত সময় লাগতে পারে ইত্যাদিও জেনে নিতে পারেন অনায়াসে। আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে TR<space>৭২৬ বা ৮২৮ লিখে পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ব্যস ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের অবস্থান সর্ম্পর্কে জানতে পারেন।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার প্রক্রিয়াসমূহঃ
আপনি যদি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকিট কাটতে না চান তাহলে ঘরে বসেই তা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেন। যদিও অনলাইনে টিকিট কাটতে হলে অতিরিক্ত কিছু বেশী খরচ হয়ে থাকে, আবার যদি বাড়ি থেকে গিয়ে ট্রেনের লাইনে দাঁড়াতে চান, সেখানেও যাওয়া-আসা খরচ লাগে। তাই ঘরে বসেই বিনা ঝামেলায় ট্রেনের টিকিট কাটুন অনলাইনে। যদিও অনেকেই জানেন যে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট না থাকলে ট্রেনের টিকিট কাটা সম্ভব হয়না।। সুতরাং নিম্নোক্ত অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা লিংকে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে আরম্ভ করে কিভাবে টিকিট কাটবেন, কিভাবে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করবেন ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া-শেষ কথাঃ
মূলত ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, কিভাবে ট্রেনের তথ্য জানা যায়সহ অনলাইনে কিভাবে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করা যায় ইত্যাদি সমস্ত বিষয়েই উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি আজকের ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া বিষয়ক আলোচনা বা তথ্যবহুল বিষয়াগুলি নিশ্চয়ই বুঝতে ও জানতে পেরেছেন। জীবনে চলার পথে যদি আপনি সঠিক পূর্ব পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন, তাহলে যে কোন কাজই অনেকটাই সহজ ও সাবলীল হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা হতে কুমিল্লা বা কুমিল্লা হতে ঢাকা আসা-যাওয়ার ট্রেনগুলির সম্পর্কে বিস্তারিত যদি জেনে থাকেন, তাহলে অযথা ঝামেলা বা অতিরিক্ত বাড়তি খরচের হাত হতে খুব সহজেই রেহাই পেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী হতে চিলাহাটি ট্রেনের সময়সূচী ভাড়া ও ষ্টপেজসমূহ
তাই আজকের ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সহ নানা বিষয়ের তথ্যগুলি আপনাদের নিকট গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়, তাহলে অন্যদেরও তা শেয়ার করতে পারেন। আসলে উপরে আলোচিত তথ্যগুলি যদি আপনার জানা থাকে, তাহলে আপনার ট্রেনযাত্রা নিরাপদ, সুন্দর ও মসৃণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত ঢাকা হতে যশোর রুটে মোট ৯টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। তাই আজকের ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া সহ সমস্ত বিষয়াদি জানা থাকলে ঢাকা হতে কুমিল্লা আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে। সবশেষে উপরোক্ত তথ্যগুলির সাথে আপনার দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করছি।





এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url