পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে
সারাবিশ্বে পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে এবং পেয়ারার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা বৈজ্ঞানিক নাম এবং বিভিন্ন পেয়ারার জাত সম্পর্কে জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
আসলে জানার আগ্রহ মানুষকে অনেক কৌতুহলী করে তোলে। সর্বোপরি ভাষাগত ভিন্নতার কারণে একই রকম ফল একেক দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে থাকে। তাই আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
যে অংশটি পড়তে চান তা ক্লিক করুন:
সারা বিশ্বে কতটি দেশ আছে
পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম
পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে
পেয়ারার কয় ধরণের প্রজাতি রয়েছে
পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে-শেষ কথা
সারা বিশ্বে কতটি দেশ আছে
বর্তমানে পৃথিবী নামক গোলকে ২০৬টি দেশ আছে। এদের মধ্যে ১৯৩টি দেশ জাতি সংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং দুটি দেশ (হলি সি এবং প্যালেস্টাইন) পর্যবেক্ষক হিসেবে আছে। এ ছাড়া বাকি ১১টি রাষ্ট্র জাতি সংঘের সদস্য নয়। সুতরাং এই বিশাল পৃথিবীতে নানান দেশের নানান সংস্কৃতির কারণে পোশাক-পরিচ্ছেদ, ভাষাগত ভিন্নতা, খাবার-দাবারের মত বিভিন্ন পার্থক্য থাকাটাই তো স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: আমকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকা হয়?
আমাদেরকে অনেক সময় কাজের প্রয়োজনে, আত্মীয়তা রক্ষায়, ধর্মীয় জ্ঞান ও নানা ধরণের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন ইত্যাদির অভিপ্রায়ে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে হয়। সুতরাং কৌতুহলীবশতঃ আমরা যদি অগ্রিম কিছু বিষয়ে জেনে থাকি, তাহলে সেটা হয় আমার একান্তই ব্যক্তিগত অর্জন। আর এই ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য দরকার হয় অধ্যবসায় বা পড়া। যদিও নতুন কোন দেশে বা নতুন কোন স্থানে যাবার আগে আমরা চেষ্টা করি কিছু সম্যক ধারণা নেয়ার। যদিও বর্তমানে এআই এর মাধ্যমেই আমরা অনেক অজানা তথ্য জানতে পারি।
পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নামঃ
পেয়ারা মিরটেসি (Myrtaceae) পরিবারের অন্তর্ভূক্ত একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Psidium guajava।
পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকেঃ
পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে বলতে বাংলাদেশে পেয়ারাকে পেয়ারা এবং ইংরেজিতে গুয়াভা বা গুয়াবা (Guava) বলে। এখানে পেয়ারা বেশিরভাগই কাঁচা খাওয়া হয়, আবার অনেক সময় তা সরিষা বাটা ও ঝাল মসল্লা দিয়ে মুখরোচক করেও তা খাওয়া হয়ে থাকে। বিভিন্ন জাতের পেয়ারা বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তার মধ্যে কাজী পেয়ারা, থাই পেয়ারা ইত্যাদি অন্যতম।
হিন্দি ও ঊর্দু (ভারতও পাকিস্তান) ভাষায় পেয়ারাকে বলা হয় আমরুদ (Amrood)। আবার ভারতের মারাঠি অঞ্চলে বলা হয় পেরু (Peru), মালয়ালমে বলা হয় পেরাক্কা (Perakka), তামিলে বলা হয় কোয়াইয়াপ্পা (Koiyaa) এবং আসমাবি অঞ্চলে পেয়ারা ফলকে বলে মধুরিআম। এ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে পেয়ারাকে (Peyara) নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। সাধারণত পেয়ারা কাঁচা খাওয়া হয়, তবে পাকা পেয়ারা মিষ্টি এবং সুস্বাদু। ভারত উপ-মহাদেশে সাধারণত পেয়ারা দিয়ে পেয়ারা জাম, জেলি, জুস বা মিষ্টান্নে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেয়ারাকে Guava বলা হয়। এখানেও এটি জুস বা মিষ্টান্নে ব্যবহার করা হয়। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে এটি তাজা খাওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রকার পেয়ারার প্রজাতিদেখা যায়, যেমন-স্ট্রবেরি পেয়ারা, পাইনাপল পেয়ারা ইত্যাদি।
যুক্তরাজ্যে পেয়ারাকে Guava-ই বলে। এই দেশেও পেয়ারা দিয়ে বিভিন্ন মিষ্টান্ন বা জুস তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্রিটেনে পেয়ারা তাজা বা শুকনো অবস্থায় খাওয়া হয় এবং এটি অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া হয়ে থাকে।
অষ্ট্রেলিয়াতে পেয়ারাকে Guava-ই বলে। এখানেও পেয়ারার বিভিন্ন প্রকার প্রজাতি পাওয়া যায়, তবে এটি বিশেষত জুস এবং মিষ্টান্নে ব্যবহৃত হয়।
ফ্রান্সের ফরাসি বা ফ্রেঞ্চ ভাষায় পেয়ারাকে গোয়িয়াভ (Goiave) বলা হয়। এখানে পেয়ারা সাধারণত জুস, মিষ্টান্ন এবং বিভিন্ন প্রকার সালাদে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
জার্মানিতে পেয়ারাকে Guave বলে থাকে। জার্মানিতে এটি সাধারণত জুস এবং মিষ্টান্নে ব্যবহার করা হয় এবং এখানেও পেয়ারা শুকনো অবস্থায় খাওয়া হয়ে থাকে।
ইতালিতেও পেয়ারাকে Guava-ই বলে। গ্রীষ্মকালে এখানে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইতালিতে পেয়ারা সাধারণত জুস বা মিষ্টান্নে ব্যবহৃত হয়।
স্পেনের স্প্যানিশ ভাষায় পেয়ারাকে গুয়ায়াবা (Guayaba) বলা হয়। এখানে এটি সালাদ, জুস বা মিষ্টান্নে ব্যবহৃত হয়। তবে স্পেনের কিছু অঞ্চলে পেয়ারা খুবই জনপ্রিয় একটি ফল এবং এটি একাধিক জাতের হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: বাংলায় আরবি খাবারের নাম সমূহ - আরবি দেশের নাম সমূহ
মেক্সিকোতে পেয়ারাকে গুয়ায়াবা (Guayaba) বলে। মেক্সিকোতে পেয়ারা প্রধানত মিষ্টান্ন, জুস এবং বিভিন্ন স্ন্যাকস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মেক্সিকোতে পেয়ারা অনেকটাই মিষ্টি এবং তাজা।
চীনে পেয়ারাকে চাইনিজ ভাষায় ফানশিলিউ (Fān shí liú) বলে। তবে চীনে পেয়ারা কিন্তু প্রায়ই তাজা খাওয়া হয় আবার তা মিষ্টান্ন বা জুস তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
জাপানে পেয়ারাকে জাপানিজ ভাষায় গুয়াবা (Guaba) বলে। জাপানে পেয়ারা সাধারণত জুস বা মিষ্টান্নে বেশি ব্যবহৃত হয়, তবে মিষ্টি স্বাদের জন্য পেয়ারা এখানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল।
রাশিয়াতে পেয়ারাকে গুয়াভা (Guava) বলা হয়। তবে রাশিয়াতে পেয়ারা প্রধানত মিষ্টান্ন, জুস এবং ডেজার্টে ব্যবহৃত হয়।
ব্রাজিলে পেয়ারাকে গোয়িয়াবা (Goiaba) বলে। ব্রাজিলে এটি বিশেষভাবে মিষ্টান্ন, সস এবং জুস তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলে প্রচুর পরিমানে পেয়ারা পাওয়া যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পেয়ারাকে Guava-ই বলে। গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে এটি খুবই জনপ্রিয়। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় পেয়ারা সাধারণত মিষ্টান্ন, জুস বা ফলমূল হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে।
মিশরে পেয়ারাকে গাওয়াফা (Gawafa) বলা হয়। মিশরে পেয়ারার জুস, মিষ্টান্ন এবং বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
থাইল্যান্ডে পেয়ারা ফলকে ডাকা হয় ফারং (Farang) নামে।
ফিলিপাইনে পেয়ারা ফলকে বলা হয় বায়াবাস (Bayabas)।
ভিয়েতনামে পেয়ারাকে বলা হয় ওআই (Oi)।
ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় পেয়ারা ফলকে ডাকা হয় জাম্বু (batu) এবং জাম্বু (biji)।
পতুগিজ ভাষায় পেয়ারাকে বলা হয় গোয়িয়াবা (Goiaba)।
আরবি ভাষাভাষী দেশগুলোতে সাধারণত পেয়ারাকে বলা হয় জুয়াবা (Jawafa)।
পেয়ারার কয় ধরণের প্রজাতি রয়েছেঃ
সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও পেয়ারা ফলের বিভিন্ন জাত রয়েছে। অর্থাৎ জনপ্রিয় এবং উচ্চ ফলনশীল জাতগুলির মধ্যে যেমন-কাজী পেয়ারা; বারি পেয়ারা-২, ৩; বাউ পেয়ারা-৪ (এটি আপেল পেয়ারাও বলে)। বিদেশি জাতের মধ্যে যেমন-থাই পেয়ারা, গোল্ডেন-৮, হোয়াইট ডায়মন্ড, রেড ডায়মন্ড ইত্যাদি অন্যতম।
পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাঃ
পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বহুগুণ। তাই, কথায় বলে পেয়ারা হচ্ছে ‘বাংলার আপেল’। অর্থাৎ জেনে রাখা ভালো যে, একটি পেয়ারাতে থাকে ৪টি কমলালেবুর সমপরিমাণ পুষ্টিগুণ। পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ডায়েটরি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং খনিজ পদার্থ।
অর্থাৎ, আপনি যদি একটি মাঝারী সাইজের পেয়ারা খেতে চান, তাহলে তাতে পুষ্টিগুণ পাবেন ৩৭-৫০ গ্রাম ক্যালোরি। আর যদি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি পেয়ারা খেতে পারেন, তাহলে তাতেও পুষ্টিগুণ পাবেন প্রায় ৬৮ গ্রাম ক্যালোরি। মোটকথা পেয়ারার সাইজের ওপর নির্ভর করে ক্যালরির তারতম্য পরিবর্তন হতে পারে।
পেয়ারায় রয়েছে নানান উপকারিতা। যেমন-পেয়ারা খেলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এ ছাড়াও চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। যেহেতু পেয়ারাতে ভিটাামিন সি থাকে, ফলে তা দাঁত ও মাড়ি সুস্থ্য রাখতেও সহায়তা করে থাকে। আবার নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন হ্রাস ঘটে। এ ছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটা অত্যন্ত নিরাপদ একটি ফল।
পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকেঃ
আসলে বিভিন্ন দেশে পেয়ারার নাম প্রায় এক হলেও স্থানীয় ভাষায় উচ্চারণে বা বানান একটু পরিবর্তন হতে পারে। মোট কথা, পেয়ারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল এর বিভিন্ন জাত ও প্রজাতি মোটামুটিভাবে সব স্থানেই পাওয়া যায়। অর্থাৎ পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে তা আমরা উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি।
আরও পড়ুন: মৌসুমী লটকন ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাসমূহ
আশা করি. আজকের পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে আর্টিকেল থেকে পেয়ারাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কী নামে ডেকে থাকে, তা ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। এ রকম আরও তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। পরিশেষে পেয়ারা ফলকে বিভিন্ন দেশে কী নামে ডাকে বিষয়ক আলোচনায় সম্পৃক্ত থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url