অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে

অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে, মূলত এই ১০টি ছবিই ভিন্ন ভিন্ন গল্প এবং ঘটনা নিয়ে নির্মিত। আর এই বিষয়ে জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
www.mithurajit.com
মূলত ১৯২৯ সাল থেকে শুরু হওয়া অস্কার পুরস্কার প্রতি বছরেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এ পর্যন্ত অনেকগুলো ছবি যদিও অস্কার পুরস্কার লাভ করেছে, কিন্তু এদের মধ্যে মোটামুটিভাবে ১০টি চলচ্চিত্র ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যা আজও মানুষ খোঁজ করে বা দেখে থাকে।

সূচিপত্রঃ অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে

দ্য গডফাদার
শিল্ডলার্স লিস্ট
লর্ড অব দ্য রিংস; দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং
ফরেস্ট গাম্প
দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস
প্যারাসাইট
টাইটানিক
ক্যাসাব্লাঙ্কা
ওয়েস্ট সাইড স্টোরি
গ্ল্যাডিয়েটর
অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে-শেষ কথা

দ্য গডফাদারঃ

অপরাধ জগতের এক অসাধারণ ও অপ্রতিদ্বন্দী ছবি এই গডফাদার। মার্কিন লেখক মারিও পুজোর ‘দ্য গডফাদার’ উপন্যাসের আলোকে নির্মিত ছবিটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পেলেও মূলত ১৯৭৩ সালে এটি ৪৫তম অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

আরও পড়ুনঃ ৯৮তম অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হলেন যারা

মূলত সিনেমাটির গল্পটি এমন, ১৯৪৫ সালের দিকে নিউইয়র্ক শহরের করলিয়নি মাফিয়া পরিবারের প্রধান হচ্ছেন ‘ডন’ অর্থাৎ ভিটো করলিয়নি, আর তিনিই গডফাদার। সিনেমাটির দৃশ্যটি এমন যে, ডনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন উপস্থিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে তার সবচেয়ে ছোট ছেলে মাইকেল (যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া একজন মেরিন) উপস্থিত, কিন্তু মাইকেল তার বাবার ব্যবসার বিষয়ে আগ্রহী নন। মূলত ভিটো করলিয়নি এমন একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি, যিনি তার প্রতি আনুগত্যকারীদের সাথে বন্ধুসুলভ মনোভাবপন্ন হলেও বিরোধীদের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠুর। কিন্তু ঝামেলা বাঁধে, যখন অপর একজন ক্ষমতাশালী প্রতিদ্বন্দ্বি পক্ষ মাদক বিক্রেতা, যিনি ভিটো’র সহায়তা চাইলে তিনি তা নাকচ করে দেন। যার ফলে ভিটোর অনুসরণকৃত পুরনো রীতি এবং নতুন নিয়ম-কানুনের মধ্যে এক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে তা দ্বন্দ্বে রূপান্তর লাভ করে। অর্থাৎ মাফিয়া পরিবারগুলোর সংঘাত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে করলিয়নি পরিবার ধ্বংসর দিতে অগ্রসর হতে থাকে। আর এই অবস্থানের মধ্যে ভিটোর ছোট ছেলে সাবেক মেরিন অফিসার মাইকেল নিজের অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বাবার ব্যবসা এবং চলমান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন ক্লাইমেক্স ও নানা পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে।

শিল্ডলার্স লিস্টঃ

‘শিল্ডলার্স লিস্ট’ ছবিটি ১৯৯৩ সালে মুক্তি পেলেও ১৯৯৪ সালে এটি মোট ৭টি ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। মূলত এই ছবিটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত অষ্ট্রেলিয়ান ঔপন্যাসিক থমাস কেনিয়ালি রচিত ‘শিল্ডলার্স আর্ক’ নামক উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন স্টিভেন জাইলিয়ান। ছবিটির পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এটি প্রযোজনা করেন ‘ইউনিভার্সাল পিকচার্স’ নামক সংস্থা হতে আর এই ছবিতে অভিনয় করেছেন লিয়াম নিসন, রালফ ফিয়েনেস সহ আরও অনেক গুণিশিল্পীবৃন্দ।

আসলে এই ছবিটি মূলত জার্মান শিল্পপতি অস্কার শিল্ডলার-এর জীবনীর উপর ভিত্তি করে রচিত হয়। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অস্কার শিল্ডলার পোল্যান্ডের ক্রাকোতে তাঁর নিজের একটি কারখানায় কাজ করার জন্য বহু ইহুদিদের নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবন রক্ষা করেন। তবে এর ফলশ্রুতিতে তাকে জার্মান নাৎসী বাহিনীকে একটা মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। পরবর্তীতে এই কারখানাটিই ইহুদীদের জন্য একটি আশ্রয় স্থাল হিসেবে পরিগণিত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ তিনি প্রায় ১১০০ ইহুদিকে হলোকাস্ট থেকে রক্ষা করে এক মানবিকতার বার্তা তুলে ধরেন।

লর্ড অব দ্য রিংস; দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিংঃ

লর্ড অব দ্য রিংস; দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং ছবিটি মূলতহ অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার এবং ড্রামা ঘরানার আর এই ছবির পরিচালক হচ্ছেন পিটার জ্যাকশন। মূলত এই ছবিটি ২০০৩ সালে মুক্তি পেলেও তা ২০০৪ সালে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

ছবিটি ইংরেজ লেখক জন রোনাল্ড রিউয়েল টলকিয়েন এর রচিত লর্ড অব দ্য রিংস বইয়ের তৃতীয় খন্ডের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। অর্থাৎ ছবিটির মূল গল্পটি এ রকম, কল্পিত মিডল আর্থ বা পৃথিবীর মধ্যভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইটা পক্ষ শুভ এবং অশুভ শক্তির মধ্যে চুড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। এই ছবিতে ফেড্রো এবং স্যাম দুইজন থাকে, যারা একটি আংটি (রিং) ধ্বংস করার জন্য মর্ডরে পৌঁছায়, কারণ এই আংটি একটি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং যে ধারণ করবে তাকেও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অপরদিকে শুভ শক্তির নেতৃত্বে থাকা অ্যারাগর্ন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তার সামরিক বাহিনী নিয়ে মিনাস টিরিথ নামক এক শহরে উপস্থিত হোন। সিনেমাটির প্রতিটি পদে পদে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার, অ্যাকশন যা আজও দর্শকদের আকর্ষিত করে থাকে।

ফরেস্ট গাম্পঃ

‘ফরেস্ট গাম্প’ ছবিটি মূলত ড্রামা এবং রোমান্স ঘরানার একটি ছবি। মূলত ছবিটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পেলেও তা ১৯৯৫ সালে ৬টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়ে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রবার্ট জেমেকিস আর এতে অভিনয় করেন টম হ্যাঙ্কস, রবিন রাইট, গ্যারি সিনিস এবং স্যালি ফিলডসহ আরও অনেকে।

ছবিটির গল্পটি ঠিক এ করম, একজন ফরেষ্ট গাম্প যিনি আমেরিকার অ্যালবামার অধিবাসী এবং তার আইকিউ কম এবং তার একমাত্র বন্ধু জেনি। যাইহোক, ফরেস্ট গাম্প সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যান এবং সেখানে তার নতুন দুই বন্ধু ড্যান এবং বুবার সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়। ফরেস্ট গাম্প সেখানে কাজের দক্ষতা দেখিয়ে বেশ কয়েকটি পদক জেতেন এবং বিখ্যাত চিংড়ির ব্যবসা গড়ে তোলেন। তিনি পিং-পং ক্রেজও তৈরি করেন এবং নানা সুবাদে বেশ কয়েকবার প্রেসিডেন্টের সাথেও সাক্ষাত করেন। কিন্তু ফরেস্ট গাম্প এর জীবনে এতো কিছুর প্রাপ্তির পরও তার শৈশবের বন্ধু ও প্রেমিকা জেনির কথা মনে পড়ে। তিনি তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। তিনি বোঝাতে চান যে, যে কেউই যে কাউকে ভালোবাসতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ফরেস্ট গাম্প এর দৃষ্টিভঙ্গিতে ১৯৫০ থেকে ৭০ দশকের সম-সাময়িক মার্কিন ইতিহাসের চিত্র দেখানো হয়েছে।

দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বসঃ

ছবিটি ১৯৯১ সালে মুক্তি পেয়ে মোট ৫টি বিভাগে একাডেমি পুরস্কার অর্জনসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। ১৯৮৮ সালে থমাস হ্যারিসের ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ নামক উপন্যাস হতে টেড টালির চিত্রনাট্য অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেছেন জোনাথন ডেমি। এতে অভিনয় করেন, জোডি ফস্টার, অ্যান্টনি হপকিন্স, টেড লেভিন, স্কট গ্লেনসহ আরও অনেকে।

ছবিটির মূল ঘটনাটি হলো, এফবিআইয়ের তরুণ প্রশিক্ষণার্থী ক্লারিস স্টার্লিং-কে একটি চাঞ্চল্যকর এবং খুনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। ‍বিভিন্ন নারীকে অপহরণ করে তাদের চামড়া ছিড়ে ফেলতো ‘বাফেলো বিল’ নামে এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার। অর্থাৎ এই দুদ্ধর্ষ খুনি এবং তার বিকৃত মনস্তত্ত্ব বুঝতে ক্ল্যারিসকে সাহায্য নিতে হয় কারাবন্দী অত্যন্ত মেধাবী ও বিপজ্জনক মনস্তাত্ত্বিক ড. হ্যানিবল লেকারের। কিন্তু লেকার বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে ক্ল্যারিসকে ক্লু দিতে রাজি হন। সুতরাং দুজনের মধ্যে এক টান টান উত্তেজনা এবং মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের উপরেই ছবিটি চলমান থাকে।

প্যারাসাইটঃ

ইংরেজি ভাষার বাইরে প্রথম অস্কার জয়ী সিনেমা হচ্ছে প্যারাসাইট, যা কোরিয়ান ভাষায় নির্মিত এবং সম্পূর্ণ সিনেমাটি ড্রামা থ্রিলার-এ ভরপুর। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ১৩২ মিনিটের এই সিনেমাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে একাডেমিক পুরস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা

এই ছবিতে লোভ এবং শ্রেণি বৈষম্যের দ্বন্দ্ব খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ দরিদ্র কি উ তার সিউলে একটি হাফ বেজমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে বাবা-মা এবং তার বোনসহ মোট চারজন সদস্য নিয়ে বসবাস করে। পরিবারের ভরন-পোষণ চালানোর জন্য কি উ তার এক বন্ধুর সহায়তায় ধনবান পার্ক পরিবারে শিশুদের টিউশনের কাজ পায়। আর পার্ক পরিবার বসবাস করেন এক আলিশান বাড়িতে। পরবর্তীতে কি উ তার বোনকেও ঐ পরিবারে আর্ট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু মজার বিষয় হলো, পার্ক পরিবারের কেউই জানতো না যে, সে কি উ এর আপন বোন বা ভাই-বোন। এক পর্যায়ে কি উ যখন তার বাবা-মাকে ঐ আলিশান বাড়িতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করে, তখন বাড়ির অন্যান্য কাজের লোকজন কি উ ও তার বোনের নানারকম দোষ ধরে চাকুরীচ্যুত করার চেষ্টা করে। আর এভাবেই এগিয়ে যায় সিনেমাটির ড্রাম-সাসপেন্সগুলি।

টাইটানিকঃ

জেমস ক্যামেরন রচিত ও পরিচালিত ‘টাইটানিক’ ছবিটি ১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ ১১টি একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডসহ অস্কার পুরস্কার জিতেছিল। ১৯৪ মিনিটের এই সিনেমাতে অভিনয় করেন লিউনার্ডো ডিক্যাপ্রিও, কেট উইন্সলেট, বিলি জেন, ক্যাথি বেটস, বিল প্যাক্সটন সহ আরও অনেকে।

ঐতিহাসিক আরএমএস টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালে প্রথম ও শেষ সমুদ্র যাত্রাপথে এক বিশাল হিমশৈলের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। মূলত এই ঐতিহাসিক জাহাজে ভাগ্যক্রমে ভ্রমণের সুযোগ ঘটে জ্যাকের। সুতরাং এই জাহাজেই উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণী রোজের সাথে নিম্নবিত্ত বা দরিদ্র চিত্রশিল্পী জ্যাকের পরিচয় ঘটে এবং এক পর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেম হয়। যখন জাহাজটি ডুবে যেতে থাকে এবং সে সময়ে জ্যাক ও রোজের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং তাদের অমর প্রেম-ই মূলত ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিটিতে।

ক্যাসাব্লাঙ্কাঃ

‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’ ছবিটি ১৯৪২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি জনপ্রিয় এবং ক্লাসিক মার্কিন রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্র। ছবিটির পরিচালক হলে মাইকেল কার্টিজ। আর এই ছবিতে অভিনয় করেন হামফ্রি বোগার্ট, ইনগ্রিভ বার্গম্যান এবং পল হেনরিড সহ আরও অনেকে।

এই ছবিটির ঘটনাটি হলো, রিক ব্লেন ক্যাসাব্লাঙ্কায় একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবের মালিক। রিক মূলত রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং কিছুটা উদাসীন জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। হঠাৎ একদিন তার ক্লাবে উপস্থিত হয়, তারই পুরনো প্রেমিকা ইলসা লুন্ড। যাকে রিক প্যারিসে থাকার সময় ভালোবেসেছিলো এবং এক সময় তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু ইলসা লুন্ড তৎকালীন নাৎসী বিরোধী চেক প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা ভিক্টর লাসলোর স্ত্রী। এদিকে নাৎসীদের হাত হতে বাঁচার জন্য ভিক্টর ও ইলসার দেশ্য ত্যাগের জন্য একটি ট্রানজিট পাস ও কাগজপত্রের প্রয়োজন ঘটে, যেটি রিকের আয়ত্তে ছিল। অর্থাৎ সেই মুহুর্তে রিক একটি চরম বাস্তবতার সম্মুখীন হয়, একদিকে তার দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, মানবতাবোধ এবং অপরদিকে দেশের প্রতি কর্তব্য। পরিশেষে রিক তার ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে ইলসা ও তার স্বামীকে দেশত্যাগে সহায়তা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন, তিনি নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।

ওয়েস্ট সাইড স্টোরিঃ

‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’ ছবিটি মূলত সেকসপিয়ারের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এর আধুনিক রূপান্তর। এটি একটি জনপ্রিয় আমেরিকান মিউজিক্যাল রোমান্টিক ড্রামা। পরিচালক রবার্ট ওয়াইজ এবং জেরোমি রবিনস দু্জনে যৌথভাবে সিনেমাটি নির্মাণ করেন। ১৯৬১ সালে এই ছবিটি মোট ১১টি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়ে ১০টি বিভাগে জয়ী হয়ে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। ছবিটিতে অভিনয় করেন নাটালি উড, রিচার্ড বেমার, রিটা মোরেনো. জর্জ চাকিরিস সহ আরও অনেকে।

এই ছবিটি মূলত ১৯৫৭ সালের নিউইয়র্ক সিটির পটভূমিতে শেকসপিয়ারের বিখ্যাত ‘রোমিও-জুলিয়েট’ কাহিনীর আদলেই তৈরি। অর্থাৎ তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বি দুইটি পক্ষ শেতাঙ্গ ‘জেটস’ এবং পুয়ের্তো রিকান ‘শার্কস’ এর মধ্যে জাতিগত এবং আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের চুড়ান্ত টানটান উত্তেজনার মধ্যে টনি ও মারিয়ার প্রেম এবং পরিশেষে এর হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি তুলে ধরা হয়েছে।

গ্ল্যাডিয়েটরঃ

এই ছবিটি মূলত ২০০০ সালে মুক্তি পেলেও তা ২০০১ সালে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কারে ভূষিত হয়। পরিচালক রিডলি স্কটের এই ছবিতে অভিনয় করেন রাসেল ক্রো, জোয়াকুইন, ফোনিক্স, কনি নিয়েলসন, অলিভার রিডসহ আরও অনেকে।

প্রকৃতপক্ষে এই সিনেমাটিতে একজন রোমান জেনারেলের প্রতিশোধের গল্প ফুটে ওঠে। অর্থাৎ সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস ক্ষমতাশালী রোমান জেনারেল ম্যাক্সিমাসকে পছন্দ করতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পূর্বে তিনি উত্তরসুরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছেলে কমোডাসের পরিবর্তে ম্যাক্সিমাসকে নির্বাচন করেন। শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং এর প্রভাবে হত্যা করা হয় ম্যাক্সিমাসের পুরো পরিবারকে এবং একপর্যায়ে ম্যাক্সিমাসকেও বন্দি করা হয়। বলীর পাঠা ম্যাক্সিমাসকে গ্ল্যাডিয়েটর হিসেবে একটি খেলায় অংশগ্রহণ করতে বলা হয়, যেখানে যে কোন একজনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সে খেলা চলতে থাকবে। সুতরাং এ রকম একটি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ছবিটি যদি না দেখে থাকেন, তাহলে আপনিও মিস করবেন এর রোমাঞ্চকর মুহুর্তগুলো।

অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে-শেষ কথাঃ

আসলে যে কোন সিনেমায় আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়, যদি তা জীবনে ঘটে যাওয়া এমন কোন কিছু ঘটনা বা কল্পনার সাথে মিলে যায়। সেই কারণে আজও মানুষ অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে। একটা বিষয় হচ্ছে, উপরোক্ত ১০ বা ১১টি ছবিই কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাবলী নিয়ে নির্মিত। কিন্তু তা দেখলে একেক সময় একেকটা সিনেমা খুব গভীরভাবে জীবনকে ছুঁয়ে যায়। সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত অনেক সিনেমা নির্মিত হচ্ছে, কিন্তু সব সিনেমায় যে অস্কার পুরস্কার লাভ করবে তা কিন্তু হয় না।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বে কোন লাইব্রেরিগুলো সবচাইতে সুন্দর ও আকর্ষণীয়

যাইহোক, আজকের আলোচনাতে অস্কার প্রাপ্ত ছবিগুলির মধ্যে অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে। যদি না দেখে থাকেন, তাহলে সময়-সুযোগ ঘটলে তা দেখে নিতে পারেন। এই ছবিগুলির প্রত্যেকটাই ব্যবসা সফল এবং তা সারাবিশ্বের মানুষের নিকট প্রশংসিত হয়েছে। পরিশেষে, আজকের অস্কার পাওয়া ১০টি চলচ্চিত্র আজও মানুষ দেখে থাকে বিষয়ক আলোচনায় আপনার দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি এবং সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে www.mithurajit.com এর পক্ষ হতে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mithu Sarker
Mithu Sarker
আমি মিঠু সরকার, দুই বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আসছি। ব্লগ পোস্ট, ওয়েব কনটেন্ট ও মার্কেটিং রাইটিংয়ে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মানসম্মত ও পাঠকবান্ধব লেখার মাধ্যমে অনলাইন সফলতা গড়াই আমার লক্ষ্য।