মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম-আমাজন নদী, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাত, দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, হিমালয় পর্বত, সুয়েজ খাল, পাম জুমেইরা, ওয়াদি রাম, গোল্ডেন গেট ব্রিজ, কেনেকট কপার মাইন ইত্যাদি। তবে, বিস্তারিত জানতে নিচের বর্ণনাগুলি পড়ুন।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে হয়তো পৃথিবীর অনেক কিছুই দেখা না গেলেও এমন কিছু স্থান আছে যেগুলি নভোচারীরা দেখে থাকেন।
পেজ সূচিপত্রঃ মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়
আমাজন নদী
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাত
দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ
হিমালয় পর্বতমালা
সুয়েজ খাল
পাম জুমেইরা
গিজার পিরামিড
ওয়াদি রাম
গোল্ডেন গেট ব্রিজ
কেনেকট কপার মাইন
সাহারা মরুভূমি
চীনের মহাপ্রাচীর
শেষ কথা
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়ঃ
২০২৬ সাল সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-সমৃদ্ধি, আনন্দ-উৎসাহ-উদ্দীপনা, বয়ে আনুক খুশীর উচ্ছলতা এবং একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হোক এই প্রত্যাশা সবসময় করি।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বের এই ১০ স্থান ভ্রমণ পিপাসুদের নিকট আকর্ষণীয়
মূলত পৃথিবী নামক গোলক ধাঁধাঁটিকে আমরা বিশাল সমতল ভূমি হিসেবে দেখে থাকলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা নভোচারীরা ২০০০ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ সেখানে থেকে তারা পৃথিবীকে কিভাবে দেখে থাকেন? প্রকৃতপক্ষে এই বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মাইক্রোগ্যাভিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংস্থাটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরে অবস্থান করে প্রতিনিয়ত পৃথিবী সম্পর্কে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং গবেষণার তথ্য প্রেরণ করে থাকেন। অর্থাৎ এই ISS বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত একটি বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ, যা পৃথিবীর চারপাশে প্রায় ৯২ মিনিটে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। যার ফলে নভোচারীরা দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখে থাকেন। সুতরাং তাঁরা দীর্ঘ সময় মহাশূন্যে অবস্থান করে পৃথিবীর যে বিখ্যাত স্থানগুলি দৃশ্যত দেখতে পেয়েছেন, এমন স্থানগুলি সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যের আলোকে জেনে নিতে পারেন।
আমাজন নদীঃ
আমাজন নদী অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সুবিস্তৃত বিশাল নদী হওয়ার কারণে তা মহাকাশ থেকে সহজেই দেখা যায়। মূলত এই আমাজন নদীটি পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে শুরু হয়ে একেবারে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রায় ৩০০০ মাইল (৬৪০০ কিঃমিঃ) অতিক্রম করে তা আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এই আমাজন নদীটি বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এবং আয়তনের দিক থেকেও তা বৃহত্তম নদী হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। এই আমাজন নদী যেখানে সাগরে গিয়ে মিশেছে সেখানে প্রতি সেকেণ্ডে ৪.২ মিলিয়ন ঘনফুট পানি সাগরে গিয়ে পড়ে। আর বর্ষা মৌসুমে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এই আমাজন নদীটি মহাকাশ থেকে একটি বিশাল নীল রেখার মতো দেয়া যায়।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাতঃ
আমেরিকার অ্যারিজোনায় অবস্থিত বিশ্বের সাতটি প্রাকৃতিক আশ্চর্যের মধ্যে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাত একটি। অর্থাৎ এর অসাধারণ সৌন্দর্যের কারণে এটি একটি বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান হিসেবে সকলের নিকট সমধিক পরিচিত। এখানে হাইকিং, রাফটিং এবং মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে, যেমন-রয়্যাল গর্জে ব্রিজ পাওয়া হওয়া যায় এবং গ্রানাইট গর্জে রাফটিং। প্রায় লাখ লাখ বছরে আগে গঠিত হয়েছিল এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এটি প্রায় ২৭৭ মাইল দীর্ঘ এবং ১৮ মাইল প্রশস্ত। আবার কোন কোন জায়গায় এটির গভীরতা এক মাইলেরও বেশি। এটিও ২৫০ মাইল দূরে অবস্থিত মহাকাশ থেকেও এটিকে একটি দীর্ঘ নদীর মতো দেখা যায়।
দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফঃ
বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের আরেকটি হলো অষ্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই প্রবাল সমুদ্র দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর হিসেবে স্বীকৃত, যা ১৪৩০ মাইলের বেশি দীর্ঘ। তথ্যানুযায়ী এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে প্রায় ৪০০ ধরনের বিভিন্ন প্রবাল, ১৫০০ প্রজাতির মাছ এবং ৪০০০ ধরণের বিভিন্ন শামুক ও ঝিনুক রয়েছে। এটি উজ্জ্বল নীল জলের কারণে সহজে চোখে পড়ে এবং তা গভীর সমুদ্রের গাঢ় নীল রঙের সাথে বৈসাদৃশ্য তৈরি করে। এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফটি মহাকাশ থেকে দেখতে পাওয়া একমাত্র জীবন্ত কাঠামোগুলির একটি।
হিমালয় পর্বতমালাঃ
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো মাউন্ট এভারেস্ট। অর্থাৎ মহাকাশ থেকে এই মাউন্ট এভারেস্টসহ হিমালয় পর্বতগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখায়। বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, চীন এবং ভুটানসহ প্রায় ১৫০০ মাইল বিস্তৃত এই পর্বতশ্রেণী। হিমালয় পর্বতমালার উচ্চতা প্রায় ২০ হাজার ফুট। এই হিমালয় পর্বতমালা মহাকাশ স্টেশন থেকে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখা যায়।
সুয়েজ খালঃ
মূলত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হিসেবে ১২০ মাইল দীর্ঘ এই কৃত্রিম খালটিকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আসলে সুয়েজ খাল তৈরি হওয়ার আগে এশিয়া হতে ইউরোপ যাওয়া-আসা করতে আফ্রিকা হয়ে ঘুরে আসতে দুই সপ্তাহ সময় লেগে যেতো, কিন্তু এখন তা আর লাগেনা। উল্লেখ্য যে, এই কৃত্রিম খাল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করে থাকে। এই সুয়েজ খালটিও মহাকাশ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অর্থাৎ মহাকাশ থেকে সুয়েজ খাল ও এর চারপাশের এলাকা ও মরুভূমির দৃশ্য দেখা যায়।
পাম জুমেইরাঃ
দুবাইয়ে অবস্থিত একটি কৃত্রিম দ্বীপ। দ্বীপটি তৈরির জন্য পারস্য উপসাগরের তলদেশ থেকে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয় এবং সেগুলো নির্মাণ কাজের জন্য নিয়ে আসা হয়। আর উঁচু ঢেউ আর তীব্র গতির বাতাস থেকে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য আরব আমিরাতের উত্তরাঞ্চলে হজর পর্বত থেকে ৭ মিলিয়ন টন পাথর খুঁড়ে আনা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে বিস্ময়কর কিছু তথ্য জেনে নিন
আর এই পাথরগুলো দিয়ে অর্ধ-চন্দ্রাকৃতির ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। পাম জুমেইরা কৃত্রিম দ্বীপটি ৫৬০ হেক্টর (১৩৮০ একর) এরিয়ার ওপর অবস্থিত, যা নির্মাণ করতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া হয়েছিল। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস এই দ্বীপটিতে রয়েছে অসংখ্য বিলাস বহুল হোটেল, অসম্ভব সুন্দর সমুদ্রতট, বড় ও রাজকীয় সব অ্যাপার্টমেন্ট। অর্থাৎ এই কৃত্রিম দ্বীপটিও কিন্তু মহাকাশ থেকে দেখলে এটি বৃত্তের মধ্যে স্টাইলাইজড পাম গাছের মতো দেখায়।
গিজার পিরামিডঃ
পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের একটি মিশরের গিজার পিরামিড, যা অদ্যাবধি পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। মূলত খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে প্রাচীন মিশরীয়দের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এই পিরামিডগুলো। মূলত নীল নদের প্রায় ৯ কিলোমিটার (৫ মাইল) পশ্চিমে অর্থাৎ পুরনো গিজা শহরে এবং কায়রো শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৩ কিরোমিটার (৮ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। মিশরের সর্ববৃহৎ পিরামিড হলো গিজার মহা পিরামিড, যা ফারাও খুফুর এর সমাধিস্থল হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। আর সবচেয়ে ছোট এবং সবশেষে নির্মিত পিরামিডটি হলো ফারাও মেনকাউসের। অর্থাৎ হাজার হাজার বছর দরে প্রাচীন মিসরিয়রা তৈরি করেছিল এইসব পিরাডিমগুলি। এই পিরামিডগুলি মহাকাশ স্টেশন থেকেও সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। অর্থাৎ ২০০১ সালে নাসা-এর নভোচারীরা মহাকাশ থেকে েএই পিরামিডগুলোর ছুবি তুলেছেন।
ওয়াদি রামঃ
জর্ডানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেলে পাথর এবং গ্রানাইট পাথরে মোড়া একটি উপত্যকা হচ্ছে এই ওয়াদি রাম। মূলত ওয়াদি রামে বসবাস করে আরবের বেদুঈনরা। আর এই ওয়াদি রামের পর্যটন বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা কিন্তু এখানকার বসবাসরত বেদুঈনদের। স্থানীয় লোকজনের নিকট এটি চাঁদের উপত্যকা বা ভ্যালি অফ মুন নামে পরিচিত। মূলত ওয়াদি রাম দেখতে অনেকটা মঙ্গল গ্রহের মত। এর আয়তন প্রায় ৭৪০ বর্গকিলোমিটার (২৮০ বর্গমাইল)। বর্তমানে ওয়াদি রাম ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে অন্তর্ভূক্ত। এটি সারা বিশ্বে এর বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য সমধিক পরিচিত। বিশেষ করে এটি খাড়া পাহাড়, প্রাকৃতিক খিলান, সংকীর্ণ উপত্যকা এবং বিশাল শিলাস্তুপের জন্য বেশি বিখ্যাত। অর্থাৎ এই ওয়াদি রামও মহাকাশ স্টেশন থেকে একটি স্বতন্ত্র ও সুন্দর ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্পষ্টতঃই দেখা যায়। িএই ওয়াদি রামে ‘দ্য মার্শিয়ান এবং রোগ ওয়ান: অ্যা স্টার ওয়ারস স্টোরি’ এর মতো সিনেমার শুটিং হয়েছে, শুধুমাত্র এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লালচে বালি, অসংখ্য গিরিখাত ও উপত্যকার কারণে।
গোল্ডেন গেট ব্রিজঃ
যুক্তরাস্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে প্রায় ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু গোল্ডেন গেট ব্রিজ অবস্থিত। এটি সান ফ্রান্সিসকোকে উত্তরে মেরিন কাউন্ডির সাথে যুক্ত করেছে। বলাবাহুল্য যে, গোল্ডেন গেট ব্রিজ সেতুটি ১.৭ মাইল দীর্ঘ, যা ১৯৩৩ সালে শুরু হয়ে তা ১৯৩৭ সালে তা সমাপ্ত হয়। ব্রিজটি নির্মিত হওয়ার পর এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা এবং দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। গোল্ডেন গেট ব্রিজের স্থপতি আরভিং মরো মূলত এই সেতুটিকে কমলা রঙে রাঙিয়েছিলেন। কারণ কুয়াশার মধ্যে কমলা রঙের দৃশ্যতা অনেক বেড়ে যায়। উল্লেখ্য যে, শীতকালে কুয়াশা কম থাকায় তা মহাকাশ থেকেও ভালোভাবে দেখা যায়।
কেনেকট কপার মাইনঃ
কেনেকট কপার মাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ সল্ট লেক সিটির কাছে অবস্থিত একটি বিশাল তামা খনি। প্রায় ২.৫ মাইল প্রশস্ত এবং ০.৫ (আধা)মাইল গভীর। কেনেকট কপার মাইন বিশ্বের বৃহত্তম মানব নির্মিত খনন এবং পৃথিবীর গভিরতম খনিগুলির মধ্যে এটি একটি। এই খনিটি প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান আছে। এই খনি থেকে প্রচুর তামা, সোনা, রূপা এবং টেলুরিয়ম উৎপাদন হয়ে থাকে এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি তামা উৎপাদনকারী খনিগুলির মধ্যে একটি। মূলত কেনেকট কপার মাইন আবার বিংহাম ক্যানিয়ন মাইন নামেও অত্যন্ত পরিচিত। কেনেকট কপার মাইন এর বিশালতা এবং প্রশস্ত হওয়ার কারণে তা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হয়ে থাকে।
সাহারা মরুভূমিঃ
মূলত সাহারা মরুভূমি মহাকাশচারীদের নিকট একটি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ সাহারা মরুভূমির বিশাল বালুকা রাশি, ধুলো মেঘ এবং সর্বোপরি এর ভূতাত্ত্বিক গঠন, যা মহাকাশ থেকে একটি চোখ বা বুলস-আই এর মতো দেখায়। প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন বর্গমাইল (৯.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সাহারা মরুভূমি। এটির আয়তন এতই বিশাল যে তা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের সমান। মূলত এর অবস্থান উত্তর আফ্রিকাতে হলেও আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত এবং আটলাস পর্বতমালা থেকে তা সাহেল অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।
চীনের মহাপ্রাচীরঃ
যদিও মহাপ্রাচীর মহাকাশ থেকে খালি চোখে দেখা অত্যন্ত কঠিন, তবে ভালো যন্ত্রের ব্যবহার বিশেষ করে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার সাহায্যে এটির ছবি তোলা সম্ভব। কারণ প্রাচীরটি বেশ সরু এবং তা আশেপাশের পরিবেশের সাথে মিশে যায়। এ ছাড়াও নভোচারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, চীনের মহাপ্রাচীরটি চাঁদ বা পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়না। এই প্রাচীরের উচ্চতা ৫ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত এবং দৈর্ঘ্য ৮৮৫১.৮ কিলোমিটার। আর এটি শুরু হয়েছে সাংহাই পাস এবং শেষ হয়েছে লোপনুর নামক স্থানে।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়-শেষ কথাঃ
মহাকাশে নভোচারীরা বিচরণ করেন এই কারণে যে, মূলত তাঁরা প্রতিনিয়ত পৃথিবী হতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকেন। আর এই মূল দায়িত্ব পালন করে থাকেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)। অর্থাৎ সংস্থাটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরে অবস্থান করে প্রতিনিয়ত পৃথিবী সম্পর্কে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং গবেষণার তথ্য প্রেরণ করে থাকেন। সুতরাং, পৃথিবী প্রদক্ষিণকালে তাঁরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায় তার ছবি ও তথ্যও প্রেরণ করে থাকেন।
আরও পড়ুনঃ শীতকালে কোন সার ব্যবহার করা ভালো
তাই আজকের মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায় বিষয়ক আলোচনা থেকে এতোক্ষণে আপনার নিশ্চয়ই জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। আজকের আর্টিকেল মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায় বিষয়ক জ্ঞানমূলক আলোচনাগুলি যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা অন্যদের শেয়ার করতে পারেন এবং সেইসঙ্গে যদি কোন মন্তব্য/পরামর্শ থাকে তাহলে সেটাও কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। পরিশেষে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায় বিষয়ক আলোচনায় আপনার দীর্ঘক্ষণ সম্পৃক্ততা ও অবস্থানের কারণে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url