পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩

অস্কার প্রাপ্ত ছবির সংক্ষেপিত বর্ণনা পাতা-৩
পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩, অর্থাৎ ১৯৮১ - ২০২৫ পর্যন্ত এর মধ্যে মোট ৪৫টি ছবি অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে। তারই চলমান ধারায় আজকের শেষ ধাপে মোট ২৩টি অস্কার বিজয়ী ছবির নাম, পরিচালক এবং ছবির সংক্ষিপ্ত বিবরণাদি নিম্নে বর্ণিত হলো।
পৃথিবীর-অস্কার-বিজয়ী-ছবিগুলির-নাম ও সংক্ষেপ-বর্ণনা-৩
প্রতিটা ছবিই আলাদা, ভিন্ন গল্প, ভিন্ন বিষয়বস্তু, চিত্রনাট্য, সঙ্গীত, কসটিউম, অভিনয় গুণাবলী এবং নানা দৃশ্যপটের পটভূমিকায় নির্মিত ছবিগুলি যদি না দেখে থাকেন, তাহলে অতিসত্ত্বর তা দেখা উচিত।

পেজ সূচিপত্রঃ পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩

পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩
শিকাগো
দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস বা দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং
মিলিয়ন ডলার বেবী
ক্র‌্যাশ
দি ডিপার্টেড
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান
স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ার
দ্য হার্ট লকার
দ্য কিংস স্পিচ
দ্য আর্টিষ্ট
আর্গো
টুয়েলভ ইয়ারস অফ আ স্লেভ
বার্ডম্যান অর দ্য আনএক্সেপ্টেড ভার্চু অব ইগনোরেন্স
স্পটলাইট
মুনলাইট
দ্য শেপ অব ওয়াটার
গ্রিন বুক
প্যারাসাইট
নোম্যাডল্যান্ড
CODA কোডা
এভরিথিং এভরিহয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স
ওপেনহাইমার
আনোরা
শেষ কথা

পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩ঃ

পৃথিবীর চলচ্চিত্রগুলি (১৯৮১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত) এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৪৫টি ছবি অস্কার পুরস্কার অর্জন করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবং সময় সংক্ষিপ্ততার কারণে মোট ৪৫টি ছবির মধ্যে আজকে ২৩টি অস্কার বিজয়ী ছবির নাম, পরিচালক এবং ছবির সংক্ষিপ্ত বিবরণাদি নিম্নে বর্ণিত হলো। এটি একটি চলমান তথ্য হিসেবে পরবর্তী আর্টিকেলে তা বর্ণিত হবে।

আরও পড়ুনঃ উপহার পছন্দের ক্ষেত্রে যা ভাবতে হতে পারে

পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩, অর্থাৎ ২৩টি ছবি হলো-শিকাগো (২০০৩), দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস বা দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং (২০০৪), মিলিয়ন ডলার বেবী (২০০৫), ক্র‌্যাশ (২০০৬), দি ডিপার্টেড (২০০৭), নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান (২০০৮), স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ার (২০০৯), দ্য হার্ট লকার (২০১০), দ্য কিংস স্পিচ (২০১১), দ্য আর্টিষ্ট (২০১২), আর্গো (২০১৩), টুয়েলভ ইয়ারস অফ আ স্লেভ (২০১৪), বার্ডম্যান অর দ্য আনএক্সেপ্টেড ভার্চু অব ইগনোরেন্স (২০১৫), স্পটলাইট (২০১৬), মুনলাইট (২০১৭), দ্য শেপ অব ওয়াটার (২০১৮), গ্রিন বুক (২০১৯), প্যারাসাইট (২০২০), নোম্যাডল্যান্ড (২০২১), CODA কোডা (২০২২), এভরিথিং এভরিহয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স (২০২৩), ওপেনহাইমার (২০২৪) এবং আনোরা (২০২৫)।

শিকাগোঃ

শিকাগো চলচ্চিত্রটি ২০০৩ সালে ছয়টি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ ১৯৬৮ সালের পর প্রথম কোন মিউজিক্যাল ছবি হিসেবে ৭৫তম আসরে সেরা চলচ্চিত্র মনোনীত হয়ে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। পরিচালক রব মার্শাল এই ছবিতে নিজে একজন পরিচালক এবং কোরিওগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। মূলত ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পেলেও তা ২০০৩ সালে অস্কার বিজয়ী হয়। এই ছবির গল্পটি এমন ধরণের, যা ১৯২০ এর দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এবং ১৯২৬ সালের একটি নাটক অবলম্বনে তৈরি। অর্থাৎ রক্সি হার্ট নামে একজন নারীর মিউজিক্যাল জগতে তারকা হওয়া এবং পরবর্তীতে তার প্রেমিককে হত্যার ঘটনা নিয়েই মূলত এই ছবি আবর্তিত।

দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস বা দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিংঃ

দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং ছবিটি ২০০৪ সালের ৭৬তম আসরে মোট ১১টি অস্কার জিতে টাইটানিক ছবির রেকর্ড স্পর্শ করে। ছবিটি মূলত ট্রিলজিটি ফ্যান্টাসি জনরার চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারে একটি বিশেষ স্থান দখল করে, এই ছবিটি শুধু বিনোদনই নয় এটি শিল্পের দিক থেকেও অসাধারণ একটি ছবি।

মিলিয়ন ডলার বেবীঃ

২০০৫ সালে ৭৭তম আসরে মোট ৪টি পুরস্কার জিতে মিলিয়ন ডলার বেবী ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। পরিচালক ক্লিন্ট ইস্টউড এই ছবিতে নিজেই একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটির গল্প মূলত এমন যে, একজন অদম্য নারী বস্কার ম্যাগি, যিনি পেশাদার বক্সার হওয়ার নিমিত্তে একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ফ্যাঙ্কির নিকট প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। একটি বক্সিং কম্পিটিশনে ম্যাগি তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে ফাইটের সময় মারাত্মকভাবে স্পাইনাল ইনজুরির শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং তাঁর প্রশিক্ষণ ফ্যাঙ্কিকে নিজের স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী জীবনাবসান ঘটাতে বাধ্য করেন। আসলে ছবিটিতে ভালোবাসা, ত্যাগ, যন্ত্র এবং নৈতিকতার গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে।

ক্র‌্যাশঃ

২০০৬ সালে ৭৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩টি পুরস্কার অর্জনসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। পরিচালক পল হ্যাগিস এই ছবিটি সহ-রচনা, প্রযোজনা এবং পরিচালনাও করেছিলেন। মূলত এই ছবিতে দেখানো হয়েয়ে যে, কীভাবে বর্ণবাদ শুধু বিদ্বেষ থেকে আসে না, বরঞ্চ তা অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি ইত্যাদি থেকে জন্ম নেই। আবার কীভাবে ভুক্তভোগীরাও অনেক সময় বর্ণবাধী আচরণ করতে পারে, যা জাতিগত বিভেদ এবং মানবিক জটিলতাকে তুলে ধরেছিল।

দি ডিপার্টেডঃ

২০০৭ সালে ৭৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে দি ডিপার্টেড সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৪টি অস্কার লাভ করে। পরিচালক মার্টিন স্করসেজি এই ছবিটিকে একটি ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে নির্মাণ করেন, অর্থাৎ টানটান উত্তেজনা ক্রাইম থ্রিলার এর জটিল প্লট, অসাধারণ অভিনয়, সব মিলিয়ে তা দর্শকদের মন জয় করে নেয়।

নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যানঃ

নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান ছবিটি ২০০৮ সালে ৮০তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অস্কার অনুষ্ঠানে মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জয়ী হয়ে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। ২০০৭ সালে নির্মিত ছবিটির পরিচালক জোয়েল কোয়েন এবং ইথান কোয়েন ভাতৃদ্বয় মূলত ছবিটি করম্যাক ম্যাকার্থির ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে নির্মিত করেন। যদিও ছবিটি ১৯৬০ এর দশকের প্রেক্ষাপটে মরুভূমিতে শিকার করতে গিয়ে লিওয়েলিন মস একটি মাদকের স্থান দেখতে পায় এবং সেখানেই মস দেখেন একটি মৃতদেহ ও তার পাশে একটি স্যুটকেস পড়ে আছে, যার মধ্যে ২০ লক্ষ ডলার। লিওয়েলিন মস লোভ সামলাতে না পেরে টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যান এবং তার পিছনে ভয়ংকর খুনি চিগুরের তাড়া খাওয়া এবং শেরিফ এড বেল তদন্ত করতে গিয়ে মাসক ব্যবসার হিংস্রতার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন, যা শেষ পর্যন্ত মস ও তাঁর স্ত্রীর মৃত্রু এবং শেরিফেরে অবসরে যাওয়ার মাধ্যমে একটি অন্ধকার ও হতাশাজনক সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়।

স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ারঃ

স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ার ছবিটি ২০০৯ সালে ৮১তম অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছিল। বলাবাহুল্য এই ছবিটি ৮ বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ সেরা চলচ্চিত্র এবং সেরা পরিচালকের (ড্যানি বয়েল) অন্যতম পুরস্কার জিতেছিল। মূলত সাইমন বোফয় তার চিত্রনাট্যটি এভাবে সাজিয়েছিলেন যে, ১৮ বছরের জামাল মালিক মুম্বাইয়ে বস্তির ছেলে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে অংশ নেয় এবং সে জিতে যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছালে, পুলিশের সন্দেহ হয় যে, সে কিভাবে এত কিছু জানে। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করে। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে সর্বশেষ প্রশ্নের সে ‘ফোন-এ-ফ্রেন্ড’ অপশন ব্যবহার করে তার বাল্যকালের প্রেমিকা লতিকার কোঁজ নেয় এবং সে উক্ত ফোনটিই ছিল তার লতিকার খুঁজে পাওয়া চাবিকাঠি এবং তার জয়কে সে নিশ্চিত করে মিলিয়নিয়ার হয়ে যায়।

দ্য হার্ট লকারঃ

প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে ক্যাথরিন বিগেলো ২০১০ সালের ৮২তম অস্কার আসরে ‘দ্য হার্ট লকার’ ছবিটির জন্য সেরা পরিচালক এবং সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হোন। এ ছবিটি প্রায় ৬টি বিভাগে অস্কার জিতেছিল। ছবির কাহিনীটি ছিল যুদ্ধ, বাস্তবতা এবং ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব নিয়ে নির্মিত একটি যুগান্তকারী শৈল্পিকতা, যেটি লেখক মার্ক বোয়ালের ইরাকে embedded অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে তীব্র বাস্তবতা, সৈনিকদের মানসিক অবস্থার গভীর চিত্রয়াণ এবং প্রচলিত যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র থেকে সম্পূর্ণই ভিন্ন।

দ্য কিংস স্পিচঃ

দ্য কিংস স্পিচ ছবিটি ২০১১ সালের ৮৩তম এ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। পরিচালক টম হুপার ছবিটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন, যা রাজা ষষ্ঠ জর্জের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাহসিকতার ওপর আলোকপাত করে। মূলত এই চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক নাটকই নয় বরং ভীতিকে জয় করা এবং আত্মবিশ্বাসের একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

দ্য আর্টিষ্টঃ

দ্য আর্টিষ্ট ছবিটি ২০১২ সালে ৮৪তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। ছবির পরিচালক মিশেল হাজানাভিসিয়াস মূলত ছবিটি ১৯২৭ থেকে ১৯৩২ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করেন, যেখানে একজন নীরব চলচ্চিত্রের পতন এবং নতুন অভিনেত্রীর উত্থান নিয়ে তৈরি। ছবিটি ১৯৮৩ সালের পর প্রথম কোনো নির্বাক চলচ্চিত্র, যেটি অস্কার বিরাট সাফল্য লাভ করে। সাদাকালো ও নির্বাক স্টাইলে নির্মিত ছবিটি একটি ব্যতিক্রমী বিজয়-ই ছিল।

আর্গোঃ

বেন অ্যাফ্লেক পরিচালিত ও অভিনীত ‘আর্গো’ চলচ্চিত্রটি ২০১৩ সালে ৮৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে ৩টি পুরস্কার সহ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। মূলত ছবিটি ইরানের জিম্মি সংকটকালীন এক গোপন উদ্ধার অভিযানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। ছবিটির অস্কার বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা করেছিলেন হোয়াইট হাউস থেকে মিশেল ওবামা।

টুয়েলভ ইয়ারস অফ আ স্লেভঃ

এই ছবিটি ২০১৪ সালের ৮৬তম অস্কারে মোট ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। অর্থাৎ এই ছবিটিই প্রথম ছিল, যা ইতিহাসে প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ পরিচালক (স্টিভ ম্যাককুইন) এর সেরা ছবি ও অস্কার প্রাপ্তি। পরিচালক স্টিভ ম্যাককুইন মূলত ছবিটিতে দাসত্বের এক ভয়াবহতা তুলে ধরেন, যা সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

বার্ডম্যান অর দ্য আনএক্সেপ্টেড ভার্চু অব ইগনোরেন্সঃ

এই ছবিটি ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়ে ৮৭তম একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডসের ৪টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছিল এবং ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে বিজয়ী হয়। ছবির পরিচালক আলেহান্দ্রো গোন্সালেস ইনারিতু মূলত তাঁর ছবিতে একজন প্রাক্তন সুপার হিরো অভিনেতার ব্রডওয়েতে ফেরার চেষ্টা ও শিল্পী সত্তা নিয়ে কীভাবে শিল্পের জন্য খ্যাতি ও আত্মমর্যাদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে তা দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

স্পটলাইটঃ

২০১৬ সালে ৮৮তম একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডসের ২টি বিভাগে পুরস্কার সহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারে বিজয়ী হয়। এই ছবির পরিচালক টম ম্যাকারথি মূলত ছবিটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মাণ করেন। 

আরও পড়ুনঃ প্রতিদিন একটি পেয়ারা খেলে মিলবে যেসব উপকার

যেখানে বোস্টন গ্লোব-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিক দ0ল ক্যাথলিক চার্চে শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা এবং বহু বছর ধরে ধামাচাপা দেয়া কেলেঙ্কারির রহস্য উন্মোচন করেন। অর্ধাৎ এই ছবির মূল আকর্ষণ ছিলো সাংবাদিকরা, যারা তাদের অসম সাহসিকতার সঙ্গে এর এই সংবেদনশীল সত্য প্রকাশ করেন এবং পরিশেষে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ান।

মুনলাইটঃ

মুনলাইট ছবিটি ২০১৭ সালে ৮৯তম আসরে ৩টি বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। ছবিটির পরিচালক ব্যারি জেনকিন্স মূলত একজন কৃষ্ণাঙ্গ, সমকামী পুরুষের শৈশব, কৈশর এবং যৌবনের তিনটি ভাগে বিভক্ত করে জীবনকে তুলে ধরেছেন।

দ্য শেপ অব ওয়াটারঃ

২০১৮ সালে ৯০তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। এই ছবির পরিচালক হলেন মেক্সিকান ছবির নির্মাতা গুইলারমো দেল তোরো। এই ছবিতে মুলত একজন মূক পরিচ্ছন্নতা কর্মী এলিসা এবং একটি বন্দি অ্যাস্ফিবিয়ান প্রাণীর মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর প্রেম, সম্পর্ক এবং ভালোবাসা যে তার প্রয়োজন অনুযায়ী আকার ধারণ করে তা দেখানো হয়েছে।

গ্রিন বুকঃ

এই ছবিটি ২০১৮ সালে মুক্তি পেলেও ২০১৯ সালের ৯১তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে মোট তিনটি বিভাগে অস্কার পুরস্কার জিতেছিল। পিটার ফ্যারেলি মূলত ছবিটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে দুই ভিন্ন জগতের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং শ্রদ্ধার ও মানসিকতাকেই তুলে ধরেছেন তাঁর গ্রিন বুক চলচ্চিত্রে।

প্যারাসাইটঃ

এই ছবিটি ২০২০ সালে ৯২তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে মোট ৪টি বিভাগে অস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। এ ছাড়াও এটিই প্রথম ছবি যা অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা চলচ্চিত্রের অস্কার জেতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে। আর এই ছবির পরিচালক হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বং জুন-হো। মূলত এই ছবিতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে যে ব্যবধান, অর্থাৎ জীবনযাত্রার পার্থক্য, শ্রেণি বৈষম্য ইত্যাদি বিষয়গুলি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেখানো হয়েছে।

নোম্যাডল্যান্ডঃ

নোম্যাডল্যান্ড ছবিটি ২০২১ সালে ৯৩তম অস্কারে মোট ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। ছবির পরিচালক ক্লোয়ি ঝাও যিনি প্রথম এশীয় এবং দ্বিতীয় নারী হিসেবে অস্কার প্রাপ্ত হন। এই ছবিতে মূলত মহামন্দার কারণে সবকিছু হারানো ষাটোর্ধ্ব এক মধ্যবয়সী মহিলা ফার্ন-এর ভ্যান জীবন ও যাযাবর সম্প্রদায়ের একটি গল্প দেখানো হয়েছে, যা শত প্রতিকূলতার মাঝেও আশা ও সহানুভূতির বার্তা দেয়।

CODA কোডাঃ

কোডা চলচ্চিত্রটি ২০২২ সালে অস্কারের ৯৪তম অনুষ্ঠানে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ৩টি বিভাগে অস্কার জিতেছিল। মূলত এই ছবিটি প্রথম কোন স্ট্রিমিং পরিষেবা দ্বারা নির্মিত চলচ্চিত্র, যা সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। মূলত ছবিটি Child of Deaf Adults বা (CODA)-এর থারণার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। অর্থাৎ রুবি তার বধির পরিবারে একমাত্র শ্রবণশক্তি সম্পন্ন সদস্য হিসেবে তাদের জীবনে ও নিজের স্বপ্নে ভারসাম্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করে থাকে।

এভরিথিং এভরিহয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্সঃ

পরিচালক ড্যানিয়েল কোয়ান এবং ড্যানিয়েল শাইনার্ট যাঁরা সম্মিলিত ভাবে এভরিথিং এভরিহয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এই ছবিটি ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ৯৫তম একাডেম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে মোট ৭টি বিভাগে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। এটি একটি মার্কিন হাস্যরসাত্মক-নাট্যধর্মী সিনেমা। অর্থাৎ এক মধ্যবয়সী চীনা অভিবাসী  নারী এভলিন ওয়াং, যিনি জীবন ও পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত, তিনি হঠাৎ করেই আবিস্কার করেন যে, তাকে মাল্টিভার্স জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নিজের অন্যান্য সন্তানদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নিজের অস্তিত্বকে বাঁচানো চেষ্টা করেন।

ওপেনহাইমারঃ

২০২৪ সালে ৯৬তম অস্কার আসরে ওপেনহাইমার চলচ্চিত্রটি মোট ৭টি বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার বিজয়ী হয়। পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান, তাঁর চলচ্চিত্রে পারবাণবিক বোমার জনক জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবন ও ম্যানহাটন প্রজেক্টের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমাটি সারা বিশ্ব ব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

আনোরাঃ

২০২৫ সালে ৯৭তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫টি অস্কারসহ সেরা চলচ্চিত্রটি হিসেবে অস্কার পুরস্কার বিজয়ী হয়। পরিচালক শন বেকার একজন যৌনকর্মী, অভিবাসী এবং রাশিয়ান মাফিয়ার জটিল জীবন ও তাদের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর আনোরা ছবিতে। অর্থাৎ নিউইয়র্কের একজন যৌনকর্মী আনির জীবন নিয়ে, আসলে আনি একজন ধনী রুশ অলিগার্কের ছেলেকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করতে চায়, কিন্তু এতে তারা জড়িয়ে পড়ে নানা বিপদে।

পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩: শেষ কথাঃ

মূলত পৃথিবীর প্রতিটা সৃষ্টিরই একটা শ্রেষ্ঠ উপহার বা পুরস্কার থাকে, যেমন-সাহিত্যে নোবেল, আবার ফিল্ম বা সিনেমা জগতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার হচ্ছে অস্কার। অর্থাৎ প্রতিটা পরিচালকের মনের গহীনে একটি ক্ষীণ আশা থাকে বা লক্ষ্য নিয়েই ছবি নির্মাণ করে থাকেন। সুতরাং তেমনই একটি ভিন্ন চিন্তাধারার প্রেক্ষাপটে আজকের আর্টিকেলে অস্কার বিজয়ী ২৩টি ছবির নাম ও সংক্ষেপিত বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে।আশা করি শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানীত পাঠক সমাজ তা বুঝতে পেরেছেন।

আরও পড়ুনঃ মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়

আসলে ভালো সিনেমার গল্প, কাহিনী, দৃশ্য, সঙ্গীত, হাসি-কান্না-দুঃখ ইত্যাদি আমাদের বাস্তব জীবনের কোন না কোন ঘটনার সাথে সম্পক্ত থাকে। যেহেতু আমি সাহিত্যিক নই, তাই সাহিত্যিকের ভাষার মতো সুন্দর ভাষাশিল্প দিয়ে লিখতে পারলাম না। তবে নিজের অভিজ্ঞতায় যেটুকু জেনেছি, তা হলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য কোন কিছুতে ডুবে থাকা বা চিন্তামুক্ত থাকা বা কিছু শেখা, জানা ইত্যাদি। আজকে পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩ বিষয়ক আর্টিকেলে ২৩টি ছবির সংক্ষিপ্ত বর্ণিত হলো। ৩টি পর্বে পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩ বিষয়ক আর্টিকেল প্রকাশের শেষ ধাপ এটি। তাই আজকের শেষ ধাপে প্রকাশিত আর্টিকেলটি আপনার নিকট ভালো বা প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে তা অবশ্যই অন্যদের শেয়ার করতে পারেন। পরিশেষে আজকের পৃথিবীর অস্কার বিজয়ী ছবিগুলির নাম ও সংক্ষেপ বর্ণনা-৩ বিষয়ক সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় আপনার দীর্ঘক্ষণ সম্পৃক্ততা এবং উপস্থিতির কারণে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ এবং সেইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mithu Sarker
Mithu Sarker
আমি মিঠু সরকার, দুই বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আসছি। ব্লগ পোস্ট, ওয়েব কনটেন্ট ও মার্কেটিং রাইটিংয়ে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মানসম্মত ও পাঠকবান্ধব লেখার মাধ্যমে অনলাইন সফলতা গড়াই আমার লক্ষ্য।