জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে। অর্থাৎ শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এসব শপিং সেন্টারগুলো সম্পর্কে জানতে নিচের তথ্যগুলি পড়তে থাকুন।
মূলত সমগ্র দেশের নামীদামি ব্র্যান্ডগুলি ক্রয় করতে এখন আর ঢাকা যেতে হয় না। এ ছাড়াও অনলাইনেও এসব পণ্যের অর্ডার নেয়া হয়ে থাকে, তাই বিস্তারিত জানতে সাথেই থাকুন।
সূচিপত্রঃ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলির নাম ও ঠিকানাকোন শপিং সেন্টারগুলোতে কি কি পাওয়া যায়
রাজশাহীর বিখ্যাত সিল্ক কাপড়ের শো-রুম
রাজশাহী নিউ মার্কেট
আর ডি এ মার্কেট
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে-শেষ কথা
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলির নাম ও ঠিকানাঃ
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে হিসেবে সাধারণত যারা ফ্যাশান স্টাইলিষ্ট বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড কিংবা নির্দিষ্ট কোম্পানীর ডিজাইন পড়তে পছন্দ করেন, একটা সময় তারা ঢাকায় গিয়ে এসব পণ্যগুলি কেনাকাটা করতেন।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা হতে কুমিল্লা চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা সময়সূচি ও ভাড়া
কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব নামকরা ব্র্যান্ডের শো-রুমগুলি অবস্থিত। তাই, আর দেরী না করে এখনই আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডের জিনিস ক্রয় করতে নিম্নে বর্ণিত শো-রুমগুলো থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
কোন শপিং সেন্টারগুলোতে কি কি পাওয়া যায়ঃ
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে হিসেবে অধিকাংশ শপিং সেন্টারগুলোতে পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, ফতুয়া, পলো টি-শার্ট, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, লং ও শর্ট স্লিভ শার্ট, শার্ট ফ্রক সেট, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, টু-পিস ও গাউন, কাবলি, বিভিন্ন ধরণের প্যান্টসমূহ, কারচুপি, এমব্রয়ডারি, ব্যাগ, জুতা-মোজা, ঘড়ি, নেকলেস, ব্রেসলেট, ওয়ালেট, ক্যাপ, সানগ্লাস ইত্যাদি। সুতরাং নিম্নে এসব শপিং সেন্টারগুলির ব্র্যান্ডসমূহ ছক আকারে প্রদত্ত হলোঃ
রাজশাহীর বিখ্যাত সিল্ক কাপড়ের শো-রুমঃ
বৃটিশ আমল থেকেই বিখ্যাত রাজশাহী সিল্ক যা এখনও অনেকের জনপ্রিয়। তবে বর্তমানে সিল্ক কাপড়ের বেশকিছু ফ্যাক্টরী/শপিং সেন্টার রাজশাহীতে রয়েছে, যেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দের সিল্ক কাপড়টি ক্রয় করতে পারেন। শুধুমাত্র শাড়ি-কাপড় ছাড়াও রয়েছে সিল্কের নানা কারুকার্য ক্ষচিত বিভিন্ন ধরণের পাঞ্জাবি। সুতরাং আপনি খুবই অনায়াসে এবং কাছাকাছি এসব ঐতিহ্যবাহী কাপড়গুলো ক্রয় করতে পারেন। যদিও বহু পুরাতন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেকেই রাজশাহী সেরিকালচার-এর শো-রুম থেকেই অধিকাংশ পণ্য ক্রয় করে থাকে, তারপরেও এর বাইরে ঊষা সিল্ক, সপুরা সিল্ক ফ্যাক্টরী, রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশন এর শো-রুম রয়েছে। সুতরাং আপনি ইচ্ছে করলেই এসব স্থান থেকেও আপনার পছন্দের কাপড়টি ক্রয় করে নিতে পারেন। নিম্নে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম, বিশেষত্ব এবং ঠিকানা প্রদত্ত হলোঃ
রাজশাহী নিউ মার্কেটঃ
একসময় রাজশাহী নিউমার্কেট ছিলো অভিজাত শ্রেণীদের জন্য নানা ধরণের পণ্য কেনার একটি নির্দিষ্ট স্থান। রাজশাহী শহরের অত্যন্ত পুরাতন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মার্জিত সবচেয়ে বড় মার্কেট। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে নিউমার্কেটে লোক সমাগম হতো অনেক বেশী। কালক্রমে আরডিএ মার্কেটসহ অন্যান্য ছোটখাটো অনেক মার্কেট তৈরি হওয়াতে বর্তমানে নিউমার্কেটের ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মূলত নিউমার্কেটে নানা প্রকারের পণ্যের জন্য নানাবিধ দোকান রয়েছে। এ ছাড়াও নিউমার্কেট মেইন গেটের সামনে দাঁড়ালে ঠিক বামদিকে নিউমার্কেটের সাথে সংযুক্ত আরও একটি মার্কেট রয়েছে যার নাম ‘হকার্স মার্কেট’। এই হকার্স মার্কেটে বিভিন্ন এক্সপোর্টের প্যান্ট, র্টি-শার্ট, শার্ট, জ্যাকেটসহ নানা ধরণের পোশাক দরদাম করে তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যায়। যাইহোক, নিউমার্কেটের ভেতরে অবস্থিত নানা প্রকার দোকানের একটি তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
চশমার দোকান
লেডিস পোশাকের দোকান
জেন্টস পোশাকের দোকান
বাচ্চাদের পোশাকের দোকান
পর্দা-কাপড়ের দোকান
কম্পিউটার শো-রুম ও সার্ভিস সেন্টার
মোবাইল শো-রুম
বাচ্চাদের খেলনার দোকান
পাঞ্জাবী
টেইলার্স
জুতার দোকান
কনফেকশনারী/ক্রোকারিজ
রেস্টুরেন্ট
বইয়ের দোকান
বিভিন্ন স্টেশনারীর দোকান
স্টুডিও
সুবিশাল মসজিদ
আরও পড়ুনঃ মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়
সাধারণত রাজশাহী নিউমার্কেট প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে, তবে ঈদের সময়গুলোতে এই সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়। আপনি যদি রাজশাহী রেলগেট বা বিন্দুর মোড় থেকে সাহেব বাজার মুখী রাস্তায় হাঁটা ধরেন, তাহলে রাজশাহী নিউমার্কেট পৌঁছাতে আপনার সময় লাগতে পারে ৫-৬ মিনিট।
আর ডি এ মার্কেটঃ
রাজশাহীর আর ডি এ মার্কেটকে বলা হয় গরীবের মার্কেট। অর্থাৎ বিশাল এই মার্কেটে অনেক কম মূল্যে নানাবিধ জিনিস আপনি ক্রয় করতে পারেন। আসলে আর ডে এ মার্কেটে পাওয়া যায় না, এমন কোন জিনিসই নাই। মুদি থেকে শুরু করে পোশাক-আশাক, জামা-কাপড়-শাড়ি, সিটি গোল্ডের নানাপ্রকার গহনা-হাড়ি-পাতিল ইত্যাদি। যার কারণে এই মার্কেটটিতে সবসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে। আর বলাই বাহুল্য ঈদের মধ্যে এই মার্কেটে এতই লোকের সমাগম ঘটে যে, মেইন গেটে যেতে অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। সুতরাং চলুন, আরডিএ মার্কেটের নানা প্রকারের দোকানের একটি ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করি।
আরডিএ মার্কেটের তিন তলায় বেশিরভাগ রয়েছে মোবাইলের শো-রুম এবং সার্ভিসিং সেন্টারসমূহ, এরপরে আছে রেডিমেড পোশাকের দোকান। তা ছাড়াও আরও রয়েছে ক্রোকারিজ দোকানসমূহ।
আবার আরডিএ মার্কেটের দোতলায় রয়েছে বেশীরভাগই ক্রোকারিজ ও প্লাস্টিকের দোকানসমূহ। এ ছাড়াও আরও রয়েছে হাড়ি-পাতিল, ট্রেইলার্স, ব্যাগের দোকান, জুতার দোকান, রেডিমেড পোশাকের দোকান, বিভিন্ন সিরামিকসসহ নানা ধরণের দোকানসমূহ।
আর আরডিএ মার্কেটের নীচতলায় রয়েছে অসংখ্য দোকান সমূহ। যেমন-শাড়ি, ওড়না, চাদর, সোয়েটার, জ্যাকেট, লেডিস ও জেন্টসের নানা ধরণের পোশাক, বাচ্চাদের নানা ধরণের পোশাক ও খেলনার দোকান, মুদি দোকান, কাঁসা-পিতলের দোকান, প্লাষ্টিকের দোকান, মহিলাদের নিত্য ব্যবহার্য কাপড়ের দোকানসমূহ, ব্যাগের দোকান, বিভিন্ন ধরণের কসমেটিকসের দোকানসমূহ, ষ্টেশনারীর দোকান, হোলসেল দোকানসমূহ, গ্যাসের চুলা, স্টোভ, রাইস কুকার, প্রেশার কুকার সারানোর সার্ভিসিং দোকানসমূহ, নানা ধরণের সিটি গোল্ড ও জুয়েলারি দোকানসমূহ, কাঁচ ও সিরামিকসের দোকানসমূহ সহ দোতলা ও তিনতলায় মসজিদ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই মার্কেটটি সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, কিন্তু ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শিথিলযোগ্য। মোটামুটি সকাল ১০.০০ টা হতে রাত্রি ১০.০০ টা পর্যন্ত এই মার্কেট খোলা থাকে।
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে-শেষ কথাঃ
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে বিষয়ক বর্ণনাগুলি আশাকরি ইতিমধ্যেই তা পড়েছেন। যদিও সাহেব বাজারের আশেপাশে অনেক মার্কেট এবং দোকানপাট রয়েছে। এইসব মার্কেটগুলিও ঈদের সময় জমজমাট হয়ে থাকে। আরডিএ মার্কেটেও বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র পাওয়া যায়। অর্থাৎ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে, সে হিসেবে আরডিএ মার্কেটটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও রাজশাহী শহরে অবস্থিত অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় আরডিএ মার্কেটের জিনিসপত্রগুলি তুলনামূলক দামও কম হয়ে থাকে। তাই বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবৃত্তসহ সকল প্রকার শ্রেণী পেশার মানুষজন কিন্তু যে কোন জিনিস ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরডিএ মার্কেটের কথাই প্রথমে ভাবে।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী থেকে রংপুর ট্রেনে কিভাবে যাওয়া যায়
যাইহোক, আরডিএ মার্কেটে গেলে এখানে এমন কিছুই নাই, যা পাওয়া যাযনা। সে কারণে অথিকাংশ মানুষের খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে আরডিএ মার্কেট। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই মার্কেটটি শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। যাতায়াত সুবিধা, একই স্থানে একাধিক পণ্য সুবিধা, সাশ্রয়ী, একই পণ্যের একাধিক দোকান হওয়ায় সেগুলি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যায়। সুতরাং আজকের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সব শপিং সেন্টারগুলি এখন রাজশাহীতে বিষয়ক আর্টিকেলটি যদি আপনাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হলে তা অন্যদের শেয়ার করতে পারেন।






এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url