গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে
প্রচণ্ড গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে বা কিভাবে চুলের পরিচর্যা করবেন সে সব বিষয়ে জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
চলছে বর্ষাকাল এবং সেইসঙ্গে সারাবিশ্বেই তীব্র তাপদাহের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রচণ্ড এই গরমে যদি আপনার চুলের সঠিক পরিচর্যা নিতে না পারেন, তাহলে চুল হয়ে দুর্বল ও ভঙ্গুর। সুতরাং নিম্নে বর্ণিত তথ্য থেকে আপনি যে কোন একটি বেছে নিয়ে চুলের সঠিক পরিচর্যা করতেই পারেন।
সূচিপত্রঃ গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে
গরমে চুলের যত্ন নিতে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা কি ঠিক?কোঁকড়ানো চুলের যত্ন কিভাবে নিবেন
শুষ্ক চুল এবং শুষ্ক মাথার ত্বকের জন্য কি করা যেতে পারে
স্ক্যাল্প স্বাভাবিক হলে কতবার চুল ধোয়া যেতে পারে
তৈলাক্ত ধরনের ত্বকের জন্য কি করবেন?
গরমে মাথার ত্বক সুস্থ্ এবং স্বাভাবিক রাখতে যা করবেন
গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে-শেষ কথা
101গরমে চুলের যত্ন নিতে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা কি ঠিক?
উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতেই পারে ‘না’। কারণ প্রতিদিন যদি আপনি চুলে শ্যাম্পু করে থাকেন, তাহলে মাথার ত্বক থেকে যে প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়ে থাকে, তা ধুয়ে যেতে পারে। আর যার ফলাফল হতে পারে এককথায় খারাপ।
আরও পড়ুন ঃ গরমে ত্বকের যত্নে কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন
যেমন-চুলের আগা ফেটে যেতে পারে, চুল ভেঙে যেতে পারে সর্বোপরি চুল শুষ্ক, রুক্ষ এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আর এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে বুঝতেই পারছেন, মাথার চুল ধীরে ধীরে কমে গিয়ে স্ক্যাল্প বেড়িয়ে আসবে। সুতরাং চুলের যত্ন নিতে হলে অবশ্যই প্রতিদিন শ্যাম্পু না করাই শ্রেয়।
কোঁকড়ানো চুলের যত্ন কিভাবে নিবেনঃ
সাধারণত কোঁকড়ানো চুলের ক্ষেত্রে আর্দ্রতা স্বাভাবিকভাবেই বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে আপনার চুলের যত্নের জন্য একটি তালিকা বা রুটি থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে চুলকে হালকা ও শাইনী করার জন্য বার বার যে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন, এটা কিন্তু মোটেই ঠিক কাজ নয়। কারণ বার বার চুলে শ্যাম্পু করলে আপনার চুল খুব দ্রুতই শুষ্ক এবং ফ্রিজি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। তাই আপনাকে চুলের স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত ১ বার থেকে ৩ বার চুল ধুতে পারেন, যা স্বাভাবিক পর্যায়ে পড়ে। এই নিয়মটি কিন্তু আবার ব্যক্তিভেদে ভিন্নও হতে পারে। এক্ষেত্রে একান্তই যদি সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে অভিজ্ঞ হেয়ার এক্সপার্টের সাথেও পরামর্শ করে নিতে পারেন।
শুষ্ক চুল এবং শুষ্ক মাথার ত্বকের জন্য কি করা যেতে পারেঃ
গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে বিষয়ক আলোচনায় প্রকৃতপক্ষে যাদের চুল ও মাথার ত্বক শুষ্ক তাদেরকে অবশ্যই ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এতে করে সাময়িক ভালো লাগলেও চুলের জন্য তা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এ ধরণের ত্বকে ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনার চুল আরও বেশি শুষ্ক এবং সেইসাথে চুলের রুক্ষতাও বেড়ে যেতে পারে বহুগুণ। মনে রাখবেন, এ ধরণের চুলের যত্নের জন্য আপনি সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার পর্যন্ত চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে পারেন। এ ছাড়ও আপনি যদি ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু অথবা কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে এতে করে চুলের আর্দ্রতা স্বাভাবিকভাবে বজায় থাকবে।
স্ক্যাল্প স্বাভাবিক হলে কতবার চুল ধোয়া যেতে পারেঃ
মোট কথা যেসব স্ক্যাল্প সাধারণত না বেশি তৈলাক্ত আবার না বেশি শুষ্ক এমন মাথার ত্বক এবং চুলের জন্য সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার চুলে শ্যাম্পু বা চুল ধোয়া যেতে পারে। অর্থাৎ এতে করে যে সুবিধাটা হয়, তাহলো স্ক্যাল্পে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ঘাম ও ময়লা পরিস্কার হয়ে যায় এবং সেইসঙ্গে চুলের আর্দ্রতাও স্বাভাবিক ভাবে বজায় থাকে। হেয়ার বিশেষজ্ঞদের ধারণা এমনটাই। তবে আপনি যদি যখন-তখন যে শ্যাম্পু করবেন এটা কিন্তু মোটেও সঠিকভাবে চুলের যত্নের মধ্যে পড়েনা। মনে রাখবেন, একজন মানুষের অনেকগুলো সৌন্দর্যের মধ্যে চুল একটি অন্যতম। তাই শরীরের অন্যান্য যত্নের পাশাপাশি চুলের যত্ন নেয়াটাও একটি বিশেষ দায়িত্ব।
তৈলাক্ত ধরনের ত্বকের জন্য কি করবেন?
মূলত তৈলাক্ত ধরণের ত্বকের জন্য সপ্তাহে ৪ থেকে ৬ বার চুল ধোয়াটা যুক্তিযুক্ত বা একটি নিয়মের মধ্যে পড়ে। কারণ অনেকেই আছেন, যাদের মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে বা বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে থাকেন অথবা অনেকেই আছেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ফলে প্রচুর ঘামতে হয়। সুতরাং এ ধরণের ক্ষেত্রগুলোতে অবশ্যই মাথার ত্বক পরিস্কার রাখা অত্যন্ত জরুরী। তবে মনে রাখবেন, বার বার চুল ধোয়ার জন্য কোন রাসায়নিক শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি মাইল্ড বা কোমল ধরণের শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন, এতে করে আপনার মাথার ত্বক পরিস্কার থাকবে এবং স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি হবে না।
গরমে মাথার ত্বক সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক রাখতে যা করবেনঃ
সাধারণত অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশেষ করে গরমকালে চুলের কিছু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি যা করতে পারেন-
আরও পড়ুন ঃ গরমে আম খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়
যদি আপনার গরম পানি দিয়ে গোসল করার অভ্যাস থাকে, তাহলে অবশ্যই অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে কুসুম কুসুম গরম পানি বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত গরম পানিতে আপনার মাথার স্ক্যাল্পে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কোন কারণে আপনাকে সত্যিই যদি ঘন ঘন মাথা ধোয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে মাইল্ড শ্যাম্পু বা কোমল সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করাই উত্তম।
অনেকেই আছেন, যারা মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলে, আসলে এটা ঠিক নয়। কারণ চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনার চুল নরম থাকবে এবং সেইসঙ্গে চুলের শুষ্কতাও কমে যাবে।
ভেজা চুল বা বিশেষ করে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘামেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এই ভেজা চুল কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বেঁধে রাখেন। এক্ষেত্রে এটা মোটেই করা যাবে না। কারণ দীর্ঘক্ষণ যদি ভেজা চুল আপনি বেঁধে রাখেন, তাহলে চুলগুলির মধ্যে এবং মাথার স্ক্যাল্পে একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব তৈরি হয় এবং দুর্গন্ধ, মাথার ত্বকে অস্বস্তি এবং সর্বোপরি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকটাই।
আমরা অনেকেই চুল আঁচড়িয়ে চিরুনি রেখে দিই। এটা ঠিক নয়, কারণ চুল আঁচড়ানোর পর চিরুনি যদি রেখে দেন, তাতে জীবাণু এবং ধুলো-ময়লা জমতে পারে। তাই চুল আঁচড়ানোর পর অবশ্যই আপনার চিরুনিটা পরিস্কার রাখুন।
সূর্যের তীব্র রোদের ক্ষতিকর প্রভাবে মাথার ত্বক ও চুলের নানা ধরণের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হলে অবশ্যই চুলকে সুরক্ষা দিন। এক্ষেত্রে আপনি যা করতে পারেন, তাহলো বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা, ওড়না, স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করতে পারেন, এতে করে সূর্যের তীক্ষ্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনার চুল নিরাপদে থাকবে।
চুল সুস্থ্য রাখতে হলে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং সেইসাথে অর্গানিক ফলের জুস। সাধারণত বিভিন্ন মৌসুমে নানাবিধ ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে। তাছাড়াও বর্তমানে মৌসুম বাদেও বাজারে সবসময়ই সব ধরণের ফল পাওয়া যায়, কিন্তু এর মধ্যে থেকে প্রিজারভেটিব বাদে অর্গানিক ফলের জুস নিয়মিত খেতে পারলে আপনার চুল কিন্তু ভেতর থেকে সুস্থ্য থাকবে।
অনেকেই আছেন, বিশেষ করে শীতকালে এবং অনেকেই বেশ তাড়াহুড়ো করে চুল শুকানোর ক্ষেত্রে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনার চুলকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিকভাবেই চুল শুকানোর চেষ্টা করুন।
সাধারণত আমরা যেটা করে থাকি, চুলে শ্যাম্পু অথবা চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম না মেনেই চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকি। আসলে এটা ঠিক নয়, কারণ চুলে শ্যাম্পু করার অন্ততপক্ষে ১ থেকে ২ ঘন্টা আগে খাঁটি নারিকেল তেল অথবা আমল্ড অয়েল তেল হালকা বা কুসুম কুসুম গরম করে চুলে গোড়ায় ম্যাসাজ করার পর তারপরে আপনি গোসলে যেতে পারেন। এতে করে আপনার চুলের গোড়া মজবুত এবং আর্দ্রতা ধরে রাখবে।
এ ছাড়াও সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলের যত্নে ফেস প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে অ্যালোভেরা বা ডিমের মাস্ক চুলে ব্যবহার করলে চুল পড়া কমবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হবে।
বেশীর ভাগ মানুষই চুলে শ্যাম্পু করার সময় শুধু মাথার স্ক্যাল্পে শ্যাম্পু ঘষে ফেনা উঠলে মনে করেন যে চুল বা মাথার ত্বক পরিস্কার হয়ে গেছে। আসলে এটা ভাবাটা ঠিক নয়। কারণ চুলে শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেমন উচিত, ঠিক তেমনি কন্ডিশনার শ্যাম্পুটি অবশ্যই আপনার চুলের আগা থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত লাগাতে হবে।
গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে-শেষ কথাঃ
সুতরাং গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে, আশাকরি উপরোক্ত আলোচনাগুলি থেকে জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। আমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গই খুব নিখুঁতভাবে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আর নিজের সৌন্দর্য বা ফিট থাকার জন্য কিছু না কিছু অবশ্যই করা যেতেই পারে। বর্তমানে বয়সের তুলনায় অনেকেরই আগে মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন প্রণালী। তাই চুলের সঠিক যত্ন নিতে আজকের গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে বিষয়ক আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আরও পড়ুন ঃ নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়ে কেন, এটা কী কোন রোগের লক্ষণ
একজন সুদর্শন মানুষ কিন্তু তার মাথায় যদি টাক থাকে বা চুল না থাকে, তাহলে তাকে দেখতে কেমন লাগবে নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। পরিশেষে গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে বিষয়ে আলোচনায় আপনি এখানে থেকে চুলের যত্ন নেয়ার নানাবিধ নিয়মাবলীগুলি ফলো করতেই পারেন। www.mithurajit.com এর পক্ষ হতে আপনার দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি এবং সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url