কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা

 

কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা কবে, কখন তা জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে থাকুন।
www.mithurajit.com
হর হর মহাদেব, অর্থাৎ যিনি দেবাদি দেব মহাদেব তিনিই মহাকাল। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই তিন কাল নিয়েই মহাকাল। আর এই মহাকালের মূল আদ্যশক্তি হলো মা কালী।

পেজ সূচিপত্রঃ কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা

কালীপূজোর নিয়মাবলী সমূহ
কালীপূজোর পদ্ধতি সমূহ
কালীপূজোর উপকরণ সমূহ
কালীপূজো বা শ্যামাপূজোর সময়সূচি
দীপাবলীর সময়
ভাই ফোঁটার সময়সূচি
কালীমাতার বিভিন্ন রূপভেদ
কবে থেকে কালি পূজার প্রচলন শুরু হয়
কালি শব্দের প্রকৃত অর্থ কি?
কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা-পরিশেষে

কালীপূজোর নিয়মাবলী সমূহঃ

কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা এর মধ্যে অবশ্যই জানতে হবে কালীপূজো করতে হলে কি কি নিময়াবলীসমূহ মেনে এই পূজা করতে হয়, যেমন-

আরও পড়ুনঃ ঋতু পরিবর্তনে যে খাবারগুলো আপনার খাওয়া উচিত

প্রথমেই কালীমাতার ধ্যান করতে হবে। এরপর দেবী ভগবতীর মূর্তি বা লেখনি দোয়াত ঠিকমতো প্রতিষ্ঠা করার পরপরই ধ্যান দিয়ে এই পূজা শুরু করা হয়ে থাকে। ধ্যান সম্পন্ন হলে হাতে একটি বিশেষ মুদ্রা নিয়ে মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করতে হয়। আরাধনা শেষ হলে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয় এবং এই পুষ্পাঞ্জলিতে ৫টি লাল জবা ফুল দেবীর চরণে অর্পণ করে দেবীমাতার নিকট আশীর্ব্বাদ চাইতে হয়। সবার শেষে মা কালীমাতার আরতি করার মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করেই প্রসাদ বিতরণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত বেশীরভাগ কালীপূজাতেই প্রসাদ হিসেবে খিচুরী প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কোন কোন জায়গায় লুচি, তরকারিও বিতরণ করা হয়ে থাকে। তবে যে কোন পূজাতেই ভোগ হিসেবে অবশ্যই ফল দেয়া হয়ে থাকে এবং সেইসঙ্গে চিড়ে, মুড়কিসহ অন্যান্য খাবারও পরিবেশিত করা হয়।

কালীপূজোর পদ্ধতি সমূহঃ

সাধারণত কালীপূজো মা কালী মন্দিরে এবং মন্ডপেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে অনেকেই বাড়িতেও মা কালীর পূজো করে থাকে। তবে মা কালীর পূজো করতে অবশ্যই মাটির মূর্তি তৈরি করার পর তা প্রতিষ্ঠা করার পরপরই পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

কালীপূজোর উপকরণ সমূহঃ

যে উপকরণগুলি না হলে কালীপূজো সম্পন্ন হয় না, তা হলো-লাল জবা/রক্ত জবা, ফুল, চন্দন, মিষ্টি ভাত, মাছ, মাংস, মসুর ডাল, প্রদীপ, দোয়াত লেখনি, ৫ রকমের ফল, নেশাজাতীয় পানীয় এবং মাথার খুলি (যা ভিতর পশুর রক্ত থাকতে হবে) ইত্যাদি।

কালীপূজো বা শ্যামাপূজোর সময়সূচিঃ

চলতি বছর কালীপূজো বা শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হবেঃ
৮ নভেম্বর, ২০২৬ ইং (বাংলা ২৩ কার্তিক, ১৪৩৩), রবিবার

অমাবস্যা তিথি শুরুঃ ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ইং (বাংলা ২৩ কার্তিক, ১৪৩৩), রবিবার, সকাল ১১.২৭ মিনিটে

অমাবস্যা তিথি শেষঃ ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ইং (বাংলা ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩), সোমবার, দুপুর ১২.৩১ মিনিটে

নিশীথকালের  পূজা অনুষ্ঠিত হবেঃ রাত্রি ১১.৩৯ মিনিট হতে ১২.৩১ মিনিট পর্যন্ত

দীপাবলীর সময়ঃ

যেহেতু ৮ নভেম্বর কালীপূজা, তাই ৮ তারিখেই হয়ে থাকে দীপাবলী বা দেওয়ালি। অর্থাৎ দিপাবলী বা দেওয়ালি সনাতন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি। আসলে দিপাবলী বা দিওয়ালি শুধুমাত্র আলো বা আতশবাজির নয়, আসলে এটি অন্ধকারের উপর আলোর, মিথ্যার উপর সত্যের এবং মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। যাইহোক, এর সময় নির্ঘন্টগুলি নিম্নরূপঃ

ধনতেরাস হবেঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৬; শুক্রবারে
নরক চতুদর্শী বা ছোট দীপাবলী অনুষ্ঠিত হবেঃ ৭ নভেম্বর, ২০২৬; শনিবারে
প্রধান দীপাবলী ও লক্ষ্মী পূজা/কালীপূজা হবেঃ ৮ নভেম্বর, ২০২৬; রবিবারে
গোবর্ধন পূজা হবেঃ ১০ নভেম্বর, ২০২৬; মঙ্গলবারে

সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরস বা ধন ত্রয়োদশী। আর এই দিনে অনেকে সোনা-রুপা, গয়না, বাসনপত্র, ঝাড়ু ইত্যাদি ক্রয় করা অত্যন্ত শুভ হিসেবে মনে করা হয়। ঠিক এর পরের দিন পালিত হয় ভূত চতুদর্শী। এই দিনে ১৪ শাক খাওয়া হয় এবং ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত রয়োছে। আর দীপাবলির তৃতীয় দিনে কার্তিক অমাবস্যার পূণ্য তিথিতে বাঙালিরা মেতে ওঠেন মা কালীর আরাধনায়।

ভাই ফোঁটার সময়সূচিঃ

ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা।।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।।
যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে যম হল অমর।
আমার হাতে ফোঁটা খেয়ে আমার ভাইহোক অমর।।

সনাতন ধর্মে ভাই-বোনের সম্পর্ক একটি পবিত্রতা, একটি অটুঁট বন্ধন, একটি সিগ্নদ্ধার মেল বন্ধন, যা একটি আত্মীক বন্ধন। সাধারণত ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভাই ফোঁটা অনুষ্ঠিত হয় অক্বোর-নভেম্বর মাসে অর্থাৎ কালী পূজার ঠিক দুই দিন পরে। অবশ্য কখনো কখনো দিনের পরিবর্তন হতেই পারে। এই দিন বোন তার ভাইয়ের কপালে চন্দনের টিকা বা ফোঁটা লাগিয়ে ভাইয়ের দীর্ঘ আয়ু ও সুখি জীবনের জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করে আর ভাই তার বোনকে হাসিখুশী ও প্রাণবন্ত করে তুলতে উপহার দিয়ে থাকে। তবে এই ভাই ফোঁটাকে ভাতৃ দ্বিতীয়া নামেও অভিহিত করা হয়।

এ বছর ভাই ফোঁটা অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর ২০২৬ ইং, বুধবার।

কালীমাতার বিভিন্ন রূপভেদঃ

মহাকাল সংহিতা অনুসারে মা কালীর নব রূপের পরিচয় মিলে, যেমন-কালকালী, কঙ্কালকালী, চিকাকালী ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি মাহাত্ম্য মন্ত্র এবং লক্ষ্মী-নারায়নের মন্ত্র

আবার মহাকাল সংহিতার অনুস্মৃতি প্রকরণে মা কালীর নয় প্রকারের উল্লেখ রয়েছে। যেমন-দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, শ্মশানকালী, কালকালী, গুহ্যকালী, কামকলাকালী, ধনকালী, সিদ্ধিকালী, চন্ডিকালিকা।

তন্ত্র পুরাণে মা কালীর আবার একাধিক রূপভেদের উল্লেখ রয়েছে। অপরপক্ষে তোড়লতন্ত্র অনুসারে মা কালীকে নয় প্রকারের রূপভেদে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন-দক্ষিণাকালী, কৃষ্ণকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্রীকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী এবং মহাকালী।

এ ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন মন্দিরে মা কালীকে ব্রহ্মময়ী, আনন্দময়ী, ভবতারিণী ইত্যাদি নামেও পূজা ও উপসনা করা হয়ে থাকে।

কবে থেকে কালি পূজার প্রচলন শুরু হয়ঃ

কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা বিষয়ক আলোচনায় মূলত কালীপূজা কবে থেকে প্রচলিত হয়েছে সেটা জানাও অত্যন্ত জরুরী। সুতরাং এই বিষয়ে বিভিন্ন জনের মধ্যে বিভিন্ন মতামত থাকলেও মোটামুটি ধরে নেয়া যায় ১৬ শতকের এক তান্ত্রিক পণ্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ যিনি তৎকালীন ব্রিটিশ কলকাতা অঞ্চলে (সোনারপুরে) এক দিনের কালী পূজা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি স্বপ্নে দেবী কালীকে দেখেছেন এবং তিনি সরল ও ঘরোয়া রুপে এই কালীপূজা করার নির্দেশ পেয়েছিলেন।

যাইহোক পরবর্তীতে নদিয়ার জমিদার ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ১৭ ও ১৮ শতকে কালী পূজাকে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শাণিতভাবে উৎসবের রূপে তুলে ধরেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কালী পূজা বিখ্যাত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নানা স্থানে ও নানা জায়গায়।

কালি শব্দের প্রকৃত অর্থ কি?

মূলত কালি শব্দের আদি অর্থ ছিল কালো রঙ বা কাল (সময়), অর্থাৎ এই কালি শব্দটি কালো তরল পদার্থ অর্থেও ব্যবহার হতে শুরু করে। আসলে এই কালী শব্দটি সংস্কৃত কাল থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো সময় বা কালের পূর্ণতা এবং অন্যটি হলো কালো বা কৃষ্ণ।

কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা-পরিশেষেঃ

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে, কালী নগ্নরূপী, এর কারণ কি?
জগতমাতা মা সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আবৃত করে রেখেছেন। অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এমন কিছুই নেয়, যার দ্বারা মাকে আবৃত করা সম্ভব। তাইতো মা জগতময়ী অনাবৃতা। আজকের আলোচনায় কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা এর বিভিন্ন বিষয়ে আশাকরি জানতে পেরেছেন। ভবতারিণী মায়ের এই আলোচনা যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই শেয়ার করবেন।

আরও পড়ুনঃ কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে বিস্ময়কর কিছু তথ্য জেনে নিন

যাইহোক, মায়ের নগ্নরূপী নিয়ে অন্য মতানুযায়ী বলা যেতে পারে, মা কালী কালের প্রতীক, অর্থাৎ কাল হলো শূন্যের অনুরূপ ও আচ্ছাদনবিহীন, তাই মা কালীও দিগম্বর। তিনি খড়গ হতে ধরিত্রীকে এসেছেন আমাদের ভেতরের অশুভ শক্তিকে দমন করতে। মা প্রয়োজনে আঘাত করেন, আঘাত করেন আমাদের ভেতরকার রজঃগুণকে। আর তাইতো মায়ের খড়গ রজঃগুণের প্রতীক রক্তাক্ত লাল রঙে রঞ্জিত। সুতরাং কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা সম্পর্কিত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে কোন মন্তব্য/পরামর্শ থাকে তাহলে তা www.mithurajit.com এর কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। পরিশেষে আজকের কালীপূজোর নিয়ম পদ্ধতি সময়সূচি দীপাবলী ও ভাইফোঁটা এর সমস্ত বিষয়ে আপনার দীর্ঘক্ষণ সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mithu Sarker
Mithu Sarker
আমি মিঠু সরকার, দুই বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আসছি। ব্লগ পোস্ট, ওয়েব কনটেন্ট ও মার্কেটিং রাইটিংয়ে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মানসম্মত ও পাঠকবান্ধব লেখার মাধ্যমে অনলাইন সফলতা গড়াই আমার লক্ষ্য।