স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন
স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন বা কিভাবে এবং কোন ধরণের পদক্ষেপ নিলে ধীরে ধীরে আপনার স্মার্টফোনের আসক্তি কমে যেতে পারে, তা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ থেকে জেনে নিতে পারেন।
বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে স্মার্টফোন। অর্থাৎ, নিজের কাছে যদি একটি ফোন না থাকে তাহলে মনে হয়, সবকিছুই অর্থহীন বা দুরাশা মাত্র। কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় বা সর্ব্বসঙ্গী এই ফোনটি যে ধীরে ধীরে আমাদের ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সে সব র্বিষয়ও আপনার জানা উচিত।
সূচিপত্রঃ স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন
ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনুনফোনের নোটিফিকেশন কমান/বন্ধ রাখুন
ঘুমানোর আগে ফোন দূরে রাখুন বা বন্ধ করুন
ফোন থেকে সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপগুলি সরিয়ে ফেলুন
সময় দেখার জন্য প্রয়োজনে হাত-ঘড়ি ব্যবহার করুন
নিজেকে ফিচার ফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত করুন
ফোন ব্যবহারের সময় ও রুটিন তৈরি করে নিন
প্রয়োজনে গ্রে-স্কেল মোড চালু করুন
গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করুন
সময় ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপ ডাউনলোড করুন
নিজের শখ ও কাজের প্রতি মনোযোগী হউন
স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন-শেষ কথা
ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনুনঃ
স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন তার মধ্যে অন্যতম হলো এটি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা। অর্থাৎ আপনি দিনে কতবার এই ফোনটি ব্যবহার করছেন বা করবেন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। মনে করুন আপনি সারদিনে ২০ বার ফোনটি ব্যবহার করেন। এবার নির্ধারণ করুন যে, এই ২০ বারের মধ্যে কোন সময়গুলোতে আপনার খাওয়া-ঘুমানো, পরিবারকে সময় দেয়া সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকছে।
আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করার নিয়ম
উক্ত সময়গুলিতে আপনি আপনার স্মর্টফোনটি ব্যবহার করবেন না, সেটি সিদ্ধান্ত নিন। লোকজনের সাথে কথা বলার সময়ও আপনাকে স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে, কারণ এতে করে একে-অপরের মধ্যে কথোপকথন ভালো হয় এবং আপনার ব্যক্তিত্বেও বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
ফোনের নোটিফিকেশন কমান/বন্ধ রাখুনঃ
স্মার্টফোন ব্যবাহর বন্ধ করতে সর্বাগ্রে ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন অথবা কমিয়ে ফেলুন। কারণ নোটিফিকেশন যত কম আসবে, আপনার ফোনের প্রতি আসক্তি ততটাই কমতে থাকবে। এক্ষেত্রে নোটিফিকেশন কমানোর জন্য অবশ্য আপনি কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। আবার আপনার মোবাইল ফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলির নোটিফিকেশন ও সাউন্ড ভাইব্রেশন অথবা বন্ধ রাখুন, যাতে করে আপনাকে বার বার স্ক্রিন বা ফোনটি দেখার ইচ্ছা জাগ্রত না হয়।
ঘুমানোর আগে ফোন দূরে রাখুন বা বন্ধ করুনঃ
স্মার্টফোনগুলির সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি/সমস্যা তৈরি হয়, যখন আপনি বিছানার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে থাকেন। এতে করে আপনার ঘুমের সমস্যাসহ শারীরিক অন্যান্য সমস্যাদিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে, যা অপনি হঠাৎ করে বুঝতে পারবেন না। মনে রাখবেন, শারীরিক ভাবে সুস্থ্য থাকতে একজন মানুষের কিন্তু ভালো ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। তাই অবশ্যই ঘুমানোর আগে অন্ততপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগেই আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধু করে রাখুন অথবা মনে করুন যে, ঘুমানোর সময় ফোন বন্ধ রাখলে কোন ক্ষতি হবে না।
ফোন থেকে সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপগুলি সরিয়ে ফেলুনঃ
স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন এর মধ্যে আপনার ব্যবহৃত মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত বিশেষ করে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপগুলি হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার মোবাইল ব্যবহারের আসক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তবে আপনি একান্তই বাদ দিতে না পারেন, তাহলে প্রয়োজনে কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করতে পারেন।
সময় দেখার জন্য প্রয়োজনে হাত-ঘড়ি ব্যবহার করুনঃ
বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিই সময় দেখার জন্য হাত ঘড়ি না দেখে মোবাইল ফোনে সময় দেখে থাকেন। যার কারণে হাত ঘড়ির ব্যবহার প্রায়ই উঠেই গেছে। তবে আপনার মোবাইল ফোন আসক্তি কমাতে হাত ঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করুন। কারণ যখনই আপনি ঘড়ি দেখার জন্য মোবাইল ফোনটি দেখবেন, ঠিক তখনই আপনার ফোনে থাকা বিভিন্ন নোটিফিকেশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহারের ইচ্ছা জাগ্রত হতে পারে।
নিজেকে ফিচার ফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত করুনঃ
স্মার্টফোনের আসক্তি কমাতে ফিচার ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্ভব হলে আপনি অন্তত এক সপ্তাহ ফিচার ফোন ব্যবহার করে তারপর আপনার স্মার্টফোনটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি অনেকটা কমে যাবে।
ফোন ব্যবহারের সময় ও রুটিন তৈরি করে নিনঃ
যদি আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার কমাতে/ত্যাগ করতে চান তাহলে অবশ্যই একটি রুটিন তৈরি করে নিতে পারেন। অর্থাৎ যন্ত্রের দখল থেকে নিজের স্বাভাবিক জীবনে আসতে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময় এবং রুটিন তৈরি করে নিতে পারেন। যেমন খাবারের সময়গুলোতে সবাই মিলে কোন এক স্থানে মোবাইল রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে করে সবাই মিলে কথা বলা-শোনার সুযোগ বাড়বে এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
আরও পড়ুনঃ মানুষ একাকিত্বে ভোগে কেন? মানুষ কেন একা থাকতে পছন্দ করে?
এ ছাড়াও অন্যান্য সময়ের জন্যও একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে আপনার স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। প্রকৃতপক্ষে আপনাকে সচেতন হতে হবে এবং মোবাইল ফোন ছাড়ার মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ নিজে যদি পজিটিভ না হোন, তাহলে কোন অভ্যাসই আপনাকে ছাড়তে পারবে না।
প্রয়োজনে গ্রে-স্কেল মোড চালু করুনঃ
আপনি যদি বদ্ধ পরিকর হোন যে, মোবাইল ফোনের আসক্তি কমাবেন, তাহলে এই পরামর্শটিও আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। যেমন-আপনার ফোনটি যদি গ্রে-স্কেল মুডে রাখেন, তাহলে ফোনের ডিসপ্লে তখন সাদা-কালো দেখাবে, আর এতে করে আপনার ফোনের প্রতি আকর্ষণও ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকবে। বিশেষ করে রঙহীন বা সাদা-কালো স্ক্রিনের প্রতি মস্তিস্ক থেকেই আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করুনঃ
বর্তমানে স্মার্টফোনগুলির মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রুপ চ্যাটিং বিষয়টি। আর বেশীর ভাগ ব্যক্তিই সারাদিনে অনেকটা সময় ব্যয় করে থাকেন এই গ্রুপ চ্যাটিংয়ে। আবার অনেকেই সারাদিনের কাজ-কর্ম অথবা ঘুমানোর আগে দীর্ঘক্ষণ সময় ধরে চ্যাটিং করে থাকেন। সুতরাং আপনার যদি স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমাতেই চান, তাহলে অবশ্যই গ্রুপ চ্যাটিং বন্ধ করুন অথবা নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে এর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
সময় ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপ ডাউনলোড করুনঃ
স্মার্টফোনের আসক্তি কমাতে আপনি যদি কোন পরামর্শ/নির্দেশনা অথবা সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তাহলে গুগলের প্লে-স্টোরে আপনার স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমাতে পারে এমন অনেক অ্যাপ সেখানে দেখতে পাবেন বা গুগলে সার্চ দিয়েও দেখে নিতে পারেন। অর্থাৎ এসব অ্যাপগুলি ডাউনলোড করেও স্মার্টফোনের ব্যবহারের সময় ঠিক করে নিতে পারেন। যেমন-অ্যাপ ডেটক্স বা রেসকিউ টাইমস এর মতো দুটি অ্যাপই আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে। এ ছাড়াও অ্যাপ লিমিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেলফ-কন্ট্রোল বা স্ক্রিন টাইম ট্র্যাক করার জন্যও Forest, Flipd বা বিল্ট ইন ডিজিটাল ওয়েবলিং অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।
নিজের শখ ও কাজের প্রতি মনোযোগী হউনঃ
সর্বশেষ যে পরামর্শ তা হলো, আপনি আপনার নিজের শখগুলির প্রতি গুরুত্বারোপ করুন। কারণ স্মার্টফোনের আসক্তির কারণে আপনার শৈশব জীবনের অনেক ভালো অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তির কারণে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথেও দিন দিন আপনার দূরত্ব তৈরি হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ যে সময়টাতে কেউ আপনাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা বা কথা বলতে চাইছে, ঠিক সে সময় আপনি কোন না কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মগ্ন থাকছেন। এ ছাড়াও স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তির কারণে আপনার নিজস্ব অনেক কাজ বা দায়িত্ব থেকেও ধীরে ধীরে আপনাকে দূরে সরে যেতে হচ্ছে অথবা সময় দিতে পারছেন না।
স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন-শেষ কথাঃ
আশাকরি আজকের স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন বিষয়ক আলোচনায় উপরোক্ত পরামর্শ বা নির্দেশনাগুলি আপনাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। আসলে বর্তমানে মোবাইল ফোনটি একটি অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। কিন্তু প্রতিটা জিনিসেরই ভালো এবং খারাপ দুটোই থাকে। আর আমার বেশীর ভাগ ব্যক্তি খারপটার প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়ে থাকি সবসময়ই। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যেমন-আপনি দিনশেষে বিছানায় বসে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করছেন, আপনি নিশ্চিত যে আপনার শিশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু সে কোন না কোন সময়ে তাকিয়ে কিন্তু ঠিকই দেখছে, হয়তো বকা খাওয়ার ভয়ে উঠছে না।
আরও পড়ুনঃ নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে
সুতরাং এই রকম আরও সমস্যা আমাদের সমাজে বিরাজমান। খেয়াল করবেন, যারা অতিরিক্ত মোবাইলে কথা বলে থাকেন, এক পর্যায়ে অনেকেরই কানের সমস্যা বা মস্তিস্কের কোন না কোন সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন তা চেষ্টা করুন। অনেকেই আছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ঘাড় কাত করে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন বা গাড়ি চালাচ্ছেন অথবা অন্য কোন কাজ করছেন। এই যে, দীর্ঘক্ষণ আপনি ঘাড় কাত করে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন, একবার ভাবুন তো, এটা কি আসলেই শারীরিক ভাবে ঠিক কাজ। যে কোন বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতুহলই অনেক সময় অনেকের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। পরিশেষে আজকের স্মার্টফোনের আসক্তি যে কৌশলে কমাতে পারেন বিষয়টি যদি আপনাদের নিকট গ্রহণযোগ্য বা পছন্দ হয় তাহলে অবশ্যই তা অন্যদের শেয়ার করতে পারেন। সবশেষে আপনাদের দীর্ঘক্ষণ উপরোক্ত বিষয়ে সম্পৃক্ত থাকার জন্য https://www.mithurajit.com এর পক্ষ থেকে আপনাদের অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url