অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায়
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে হলে আজকের আর্টিকেলটি আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে।
জেনে রাখা ভালো যে, একজন সুস্থ্য মানুষের প্রতিদিন ৫০ হতে ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া কিন্তু একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে জেনে রাখা ভালো যে, মানুষের মাথায় চুল থাকে গড়ে এক লক্ষ বা তার বেশী। তাই, যখনই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মাত্রায় চুল পড়তে থাকে, তখন অবশ্যই তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে বৈকি!
সূচিপত্রঃ অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায়
চুল পড়ার সাধারণ কারণ কি হতে পারেচুল পড়া কখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় কি
অতিরিক্ত মানসিক চাপেও চুল পড়তে পারে
চুল পড়ার অন্যতম কারণ কি হতে পারে
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায়-শেষ কথা
চুল পড়ার সাধারণ কারণ কি হতে পারেঃ
মূলত একজন সুস্থ্য মানুষের দৈনিক গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়ে থাকে, যা আমরা হিসাব করিনা। তবে আমাদের মাথার ত্বকের বা চুলের কিন্তু একটা নিজস্ব জীবনচক্র রয়েছে। আর সেই জীবনচক্র অনুযায়ী প্রতিদিন একজন মানুষের পুরোনো চুল ঝড়ে বা পড়ে গিয়ে সেখানে কিন্তু আবার নতুন চুল গজায়। এ ছাড়াও অনেকের বংশগত কারণ, ভিটামিনের স্বল্পতা, অপরিস্কারচ্ছন্নতা ইত্যাদি কারণগুলো অন্যতম।
চুল পড়া কখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠেঃ
সাধারণত চুল পড়া তখনই দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে যখন দেখবেন যে, নিয়মিত ১০০টির বেশী চুল ঝড়ে পড়ছে। কিংবা মাথা আঁচড়ালে অতিরিক্ত চুল উঠে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব, হরমোনের অভাব, এলোমেলো জীবন-যাপন, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা অথবা অপরিস্কারচ্ছন্নতা ইত্যাদি সমস্ত কারণেই চুল উঠে যেতে বা চাহিদার তুলনায় বেশী পড়তে পারে।
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় কিঃ
সাধারণত নারী-পুরুষ উভয়েরই চুল পড়তে পারে, যা একটি সাধারণ ব্যাপার। তবে তা যদি অতিরিক্ত হয়, অবশ্যই তা দুশ্চিন্তার কারণ বৈকি! আসলে চুল সুনির্দিষ্ট কিছু কারণের জন্য পড়ে থাকে, যেমন-অনিয়মিত জীবন-যাপন প্রণালী, ভিটামিন বা পুষ্টিজনিত ঘাটতি, চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, বিভিন্ন দুষণ এবং সর্বোপরি অতিরিক্ত মানসিক চাপ। যাইহোক, অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় কি বা কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে তা সমাধান করা যেতে পারে, তার কিছু ধারণা নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
আরও পড়ুনঃ চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার - চুল লম্বা করতে মেথির ব্যবহার
আপনার অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকলে আপনি পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে দিতে পারেন। অর্থাৎ সপ্তাহে অন্তত ২ বার মাথার স্ক্যাল্পে ভালো করে পেঁয়াজের রস লাগিয়ে ২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং এরপর তা ধুয়ে ফেলুন। কারণ পেঁয়াজের রসে থাকে সালফার, যা আপনার মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে থাকে।
দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনুন। অর্থাৎ প্রতিদিন ফাস্ট ফুড বা মশলাদার খাবার গ্রহণ না করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সেইসঙ্গে নিয়মিত শাক-সবজি, মাছ, ডিম এবং ফলমুল খেতে পারেন।
অতিরিক্ত চুল পড়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো আপনার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়া। অর্থাৎ অনেকেই আছেন, যারা ঘুমানোর সময় টিভি দেখেন, আবার অনেকে বিছানায় শুয়ে বা বসে মোট কথা ঘুমের আগে মোবাইল দেখে থাকেন। এতে করে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে আপনার সুস্থ্যতার জন্য প্রতিদিন আপনাকে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় কি হিসেবে আপনি নারিকেল তেলের সঙ্গে কারিপাতা মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করতে পারেন। মূলত কারিপাতা ফুটিয়ে তা ঠান্ডা করে নারিকেলে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার স্ক্যাল্পে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে থাকুন। এতে করে আপনার চুলের গোড়া মজবুত ও শক্তিশারী হয়ে উঠবে।
চুলের যত্নে অন্যতম এবং প্রকৃতি নির্ভর উদ্ভিদ হচ্ছে অ্যালোভেরা। অর্থাৎ সম্ভব হলে তাজা অ্যালোভেরা জেল চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তারপর তা ধুয়ে ফেলুন। যদিও অনেকেরই জানা যে, অ্যালোভেরা জেল মূলত মাথার ত্বকের শুষ্কতা ও খুশকি দূর করতে অসম্ভব কার্যকরি।
চুলের যত্নে বাড়িতে বিভিন্ন ধরণের প্যাক তৈরি করতে পারেন। যেমন-ডিম ও দই দিয়ে একটি প্যাক করে তা মাথার স্ক্যাল্পে ব্যবহার করতে পারেন। মূলত ডিম এবং টক দই একসঙ্গে ভালো করে ফ্যাট করুন। যখন দেখবেন যে, দুটো উপাদানই ভালো করে মিশে গেছে তখন তা মাথার স্ক্যাল্পে ধীরে ধীরে মাস্যাজ করুন। এতে করে আপনার চুল নরম হবে এবং সেইসঙ্গে হবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, কেননা ডিম ও টক দইয়ের মিশ্রণ আপনার চুলকে প্রোটিনের যোগান দিয়ে থাকে।
আপনি ইচ্ছে করলে মেথি ও টকদই দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো-আগের দিন রাত্রে মেথি ভিজিয়ে রাখুন এবং পরের দিন তা মসৃণ করে বেটে নিন। এবার বেটে রাখা মেথির মধ্যে পরিমাণ মতো টক দই মিশিয়ে ভালো করে ফ্যাট করে নিন। এরপর তা ধীরে ধীরে আপনার মাথার স্ক্যাল্পে লাগান এবং ৩০ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন। এই মেথি ও টক দইয়ের প্যাকটি আপনার চুলে প্রোটিনের যোগান দিবে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে।
মাথার চুল যদি ধরে রাখতে বা ঠিক রাখতে চান, তাহলে প্রতিদিন চুলকেও আপনার সময় দিতে হবে। অর্থাৎ খাঁটি নারিকেল তেল হালকা একটু গরম করে তা সমগ্র মাথার ত্বকে দীর্ঘ সময় ম্যাসাজ করুন। এতে করে আপনার মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ঘটবে এবং চুলের ফলিকলও পুষ্টি পাবে।
আরও পড়ুনঃ টক দই এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
অনেকেই আছেন, যারা ঘুমের আগে মাথা আঁচড়িয়ে খুব শক্ত করে চুল বেধে থাকেন। আবার অনেকে আছেন, যারা চুল ভেজানোর কিছুক্ষণ পর চুল আঁচড়িয়ে থাকেন। চুল ঠিক রাখতে হলে কখনোই এটি করা যাবে না। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া খুব নরম হয়ে থাকে, ফলে সেই সময়ে আঁচড়ালে অতিরিক্ত চুল উঠতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপেও চুল পড়তে পারেঃ
সাধারণত চুল পড়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে অতিরিক্ত মানসিক চাপও দায়ী। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের ওপর নানা প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে, যার মধ্যে চুল পড়া একটি। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপের সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে চুল পড়ার বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, যেমন-টেলোজেন এফ্লুভিয়াম, ট্রাইকোটিলোমানিয়া, অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা। মূলত টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হলো তীব্র মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় মাথার চুলের গোড়া বিশ্রম পর্যায়ে চলে যায় এবং এর ঠিক কয়েক মাস পর হঠাৎ করেই চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়ে তাকে। আবার ট্রাইকোটিলোমানিয়া হলো মানসিক চাপ, বিভিন্ন উত্তেজনা, একাকীত্ব বা একঘেয়েমি এবং সর্বোপরি হতাশাজনিত অনুভূতি থেকেও চুল টেনে তোলার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। সবশেষ হলো অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা। অর্থাৎ এই অ্যালোপেসিয়া অ্যারেট ‘র পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে, তবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-তীব্র মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশতঃ চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে থাকে, যার ফলে মাথার বিভিন্ন অংশে গোলাকার বা নির্দিষ্ট অংশে চুল পড়ে গিয়ে থাকে।
চুল পড়ার অন্যতম কারণ কি হতে পারেঃ
চুল পড়ার অন্যতম কারণগুলির মধ্যে বলা যায়, শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ত্বকের সংক্রমণ, সঠিকভাবে চুলের যত্ন না নেয়া ইত্যাদি। সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, মেনোপজ, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম, থাইরয়েড ইত্যাদি সমস্যার কারণে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এবং এর ফলে চুল ঝরে পড়তে পারে। আবার আপনি যদি শরীরে পুষ্টিজনিত খাদ্য সঠিক ভাবে না দিতে পারে তাহলে আপনার শরীরে আয়রন, ভিটামিন এবং প্রোটিনের অভাবেও কিন্তু চুলের গোড়া দুবল হয়ে চুল পড়তে পারে। অনেকেই আছেন, যারা প্রচন্ড মানসিক চাপ সহ্য করে থাকেন, অর্থাৎ যে কোন ধরণের মানসিক আঘাত বা অসুস্থতার কারণেও কিন্তু চুল পড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কেউ কেউ আবার সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিয়ে থাকেন না। যেমন-চুলে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার বা হিট দেয়া, খুব শক্ত করে চুল বাধা ইত্যাদি কারণেও আপনার অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে।
অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায়-শেষ কথাঃ
উপরোক্ত আলোচনায় অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আশা করি জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। একটা বিষয় খেয়াল করবেন, পৃথিবীতে মানুষ জন্মগ্রহণ করে পরিপূর্ণ ভাবেই, কিন্তু ধীরে ধীরে তার অসেচতনতা, অসতর্কতা বা অমনোযোগিতা কিংবা উদাসীনতা ইত্যাদির বিষয়গুলোর পরিমাণ বাড়তে থাকলে এক সময়ে তা প্রকট আকার ধারণ করে। যদিও এক্ষেত্রে বংশগত কারণও রয়েছে। তথাপি, আমাদের অসেচতনতা বা উদাসীনতা অথবা শুধুমাত্র যত্নের কারণে অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক তেমনই একটি হলো চুল।
আরও পড়ুনঃ কখন চুলে সরিষার তেল ব্যবহার করবো - সরিষার তেলের নানান উপকারিতা
তাই যখন অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকে বা পড়া শুরু হয়, তখনই আমরা অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধের ঘরোয়া উপায় গুলো খুঁজতে থাকি। যাইহোক, আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো বা কোন ধরণের জ্ঞানের খোরাক জোগায় তাহলে আশাকরি তার সার্থকতা। যদি উপরোক্ত আলোচ্য বিষয়ক কোন পরামর্শ, উপদেশ বা মন্তব্য থাকে, তাহলে অবশ্যই www.mithurajit.com এর মন্তব্য ঘরে অবশ্যই তা জানাতে পারেন।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url