নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে সংক্রান্ত আলোচনায় বেশি গরম লাগার ভিন্ন ভিন্ন অর্ন্তনিহিত বিষয়গুলি জানতে নিচের বর্ণনাগুলি পড়তে থাকুন।
www.mithurajit.com
সাধারণত গরমের সময় গরম লাগতেই পারে, তবে নারীদের বেশী গরম লাগার কারণগুলি হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন, বিপাকক্রিয়া, চর্বি বা পেশির অনুপাত অথবা অন্য কোন শারীরিক সমস্যা। আজকে আর্টিকেলের নিম্নবর্ণিত আলোচনায় সে বিষয়গুলি জানতে পারবেন।

সূচিপত্রঃ নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন?
নারীদের গরম লাগার মূল কারণগুলো কি হতে পারে
কোন কোন কারণে পুরুষদের চেয়ে নারীদের গরম বেশী লাগে
অতিরিক্ত গরম লাগার লক্ষণগুলি কি কি হতে পারে
বেশী গরম লাগার সমাধানে কি করা যেতে পারে
নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে-শেষ কথা

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন?

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন, তা এককথায় বলতে গেলে যেমন-নারীদের শরীরে অভ্যন্তরীণ চর্বি এবং তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকে, আর এই চর্বিগুলি শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সহায়তা করে থাকে। এ ছাড়াও হরমোনজনিত সমস্যা, অর্থাৎ নারীদের হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় ওঠানামা করে থাকে বিশেষ করে মাসিক ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান (অর্থাৎ এই সময়টাতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তন), মেনোপজ, পেরিমেনোপজ ইত্যাদি। আর এগুলো পরিবর্তনের ফলে তা মস্তিস্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। মোটকথা নারীদের ক্ষেত্রে এই হরমোনের পরিবর্তন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কমিয়ে দিতে পারে, যা গরম লাগার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

নারীদের গরম লাগার মূল কারণগুলো কি হতে পারেঃ

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে তা নিম্নে বর্ণিত আলোচনা তেকে জানতে পারবেনঃ
হরমোনের পরিবর্তনজনিত সমস্যা, অর্থাৎ ঋতুচক্র বা মাসিকের পূর্বে অথবা গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পাওয়া।

হাইপারথাইরয়েডিজম জনিত সমস্যা তৈরি হলে সাধারণত থাইরয়েড হরমোন বেশি উৎপন্ন হয় এবং এটিও বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে শরীরকে গরম করে দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন ঃ গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে

নারীদের আয়রনজনিত সমস্যা বা রক্তের ঘাটতি প্রায়ই দেখা যায়। সাধারণত শরীরে আয়রন অথবা রক্তের ঘাটতি দেখা দিলে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে থাকে এবং তার ফলে গরমের অনুভূতি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায় এবং এর ফলে শরীর হঠাৎ করে গরম হয়ে যেতে পারে অথবা অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হতে পারে।

সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঘাম কম হয়ে থাকে এবং এর ফলে বেশি তাপমাত্রার ঘাম নির্গত হতে শুরু করে। কারণ এ সময়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে না।

সাধারণত নারীদের মাসিক শুরু হওয়ার আগে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে থাকে এবং সেই কারণে শরীরের মাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ঠিক একইভাবে মাসিক শুরু হওয়ার পরে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ/মাত্রা কমে গিয়ে থাকে, যার ফলে এ সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে হৃৎপিন্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আর এ জন্যই পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে অনেক নারীর শরীর ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, অবসাদ এবং সর্বোপরি অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত গর্ভাবস্থা শুরুর সময়ে এবং মাঝ পর্যায়ে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রাগুলি খুব বেশী ওঠানামা করে থাকে, আর এ কারণে শরীর গরম হতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে অবশ্য ইস্ট্রোজেনের পাশাপাশি প্রোজেস্টেরনের মাত্রাও বেড়ে গিয়ে থাকে, এ কারণে তা শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।

আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের সকল সদস্যদের সেবাযত্নের দায়িত্ব পালন করতে হয় নারীদেরকেই। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারে নারীদের সেবাযত্ন নেয়ার তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা থাকেনা।

আবার বয়সও একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ নারীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপের প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা ও ঝুঁকির পরিমাণও বেড়ে যায়।

অনেক সময় নানারকম ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এর জন্য দায়ী হতে পারে। অর্থাৎ ঔষধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তা হিট স্ট্রেস বা তাপজনিত চাপের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

কোন কোন কারণে পুরুষদের চেয়ে নারীদের গরম বেশী লাগেঃ

সাধারণত নারীদের শারীরিক গঠন অনুযায়ী পুরুষদের তুলনায় নারীদের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা এবং চর্বির পরিমাণ বেশি হওয়া এবং সেইসঙ্গে হরমোনের স্বাভাবিক ওঠা-নামার ফলে মস্তিস্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। আর এর ফলে নারীদের গরম বেশী লেগে থাকে। তবে এর সাথে আরও যুক্ত হয়, মাসিক ঋতুচক্র. মেনোপেজ, গর্ভাবস্থা এবং বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ হরমোনের পরিবর্তন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্ষমত কমিয়ে দিয়ে থাকে।

অতিরিক্ত গরম লাগার লক্ষণগুলি কি কি হতে পারেঃ

শরীরে অতিরিক্ত গরম বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। তাই, নিম্নে শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হলোঃ

আপনার শরীরে যদি অত্যধিক গরম লাগে তাহলে স্বাভাবিকের চেয়ে শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম নির্গত হবে।

শারীরিক গঠন ও বিপাকক্রিয়ার সমস্যা, যেমন-সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীদের পেশি কম হয়, ফলে ফ্যাট ও চর্বির পরিমাণ বেশী থাকার কারণে নারীদের গরম বেশী লাগে। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের পেশি কম থাকার ফলে শরীর হতে কম ক্যালোরি নির্গত বা ক্ষয় হয়, এতে করে শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি ধীরসম্পন্ন হয়ে ওঠে এবং তার ফলেই শরীরের তাপের প্রতিক্রিয়া পাল্টে গিয়ে অত্যধিক গরম লাগতে পারে।

অনেকের শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি বা জ্বালা শুরু হতে পারে।

শরীরে গরম লাগার আরেকটি অন্যতম লক্ষণ হলো দ্রুত হৃদস্পন্দন শুরু হওয়া।

অনেকেই আছেন, যাদের শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগলে তখন মাথা ঘুরে এবং অনেক সময় হালকা মাথাব্যথাও শুরু হয়ে যায়।

আরও পড়ুন ঃ কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী

যেহেতু গরম লাগলে পানি পিপাসা লাগতেই পারে, তবে কিছু ব্যক্তি বিশেষের মানুষের শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার অন্যতম লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং সেইসঙ্গে পানিশূন্যতারও সৃষ্টি হয়ে থাকে।

আবার অনেকের কিন্তু শরীরে অত্যধিক গরম লাগার লক্ষণ হিসেবে বমি বমি ভাব অনুভূত হতে পারে।

বেশ কিছু ব্যক্তি বিশেষের আবার অত্যধিক গরমের কারণে শরীরের পেশীগুলো বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন পেশীতে ব্যথা বা খিঁচুনি হতে পারে।

বেশী গরম লাগার সমাধানে কি করা যেতে পারেঃ

পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

মশলাদার এবং তেলযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

রোদ এড়িয়ে চলার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ রৌদ্রে বেড়ানোর সময়, রোদ চশমা, সানস্ক্রিন, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করা উত্তম।

ঠান্ডা স্নান বা শীতল ঝরণার পানিতে গোসল করতে হবে।

অত্যধিক গরমে হালকা রঙ ও ঢিলেঢালা সুতি কাপড়কের পোশাক ব্যবহার করতে হবে।

গরমের দিনে যথাসম্ভব ঠান্ডা বা ছায়াঘেরা বা বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

টাটকা যে কোন ফল খাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ করে গরমের দিনে শশা এবং তরমুজ বা সম্ভব হলে দই খাওয়াটা অত্যন্ত ভালো।

ভেষজ চা পানে অভ্যস্ত হওয়া, অর্থাৎ কফি, চা বা সোডাযুক্ত ক্যাফেইন খাওয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে থাকে এবং পরবর্তীতে শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

অ্যালকোহল পানে শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে এবং তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমের দিনে কাজের জন্য ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করতে হবে।

ধ্যান বা গভীর শ্বাস গ্রহণ, অর্থাৎ নিয়মিত যোগ ব্যায়ামে শরীর ও মনকে ঠান্ডা এবং সতেজ রাখা যায়।

প্রচন্ড গরম লাগলে সম্ভব হলে ঠান্ডা পানিতে পা ভিজিয়ে রেখেও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে আপনার গরমের কারণ খুঁজে বের করে সেগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।

নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে-শেষ কথাঃ

আসলে আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে সারাবিশ্বেই গরমের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে প্রচন্ড পরিমাণে তাপ প্রবাহ বা গরমের কারণে মানুষের নানারকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে ইত্যাদি বিষয়গুলো উপরের আলোচনা থেকে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। যদিও আমরা জানি যে, নারীদের শরীরের নানাবিধ শারীরিক গঠনের কারণে তাদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়ে থাকে। তারপরেও সারাবিশ্বে গরমের প্রভাব এবং সর্বোপরি অতিরিক্ত বিলাসী জীবন-যাপন, অলস সময় কাটানো, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ না করে ঔষুধ সেবন, পরিবেশের বিরূপ আচরণ ইত্যাদি নানা কারণেই নারীদের নানারকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন ঃ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোন দল কত পুরস্কার পেল

যাইহোক, আজকের আর্টিকেলে নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে বিষয়ক আলোচনাটি যদি আপনার নিকট যুক্তিযুক্ত মনে হয়, তাহলে তা অন্যদের শেয়ার করতে পারেন। মূলত www.mithurajit.com এর পক্ষ হতে যে কোন তথ্যই সঠিক ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় যথাসাধ্য। তারপরেও যদি কোন কারণে কোন কিছু অসামঞ্জস্য মনে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। সবশেষে আজকের আলোচনায় নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? কারণগুলো কি হতে পারে বিষয়ে আপনার দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি ও যুক্ত থাকার জন্য আপনাকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mithu Sarker
Mithu Sarker
আমি মিঠু সরকার, দুই বছর ধরে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আসছি। ব্লগ পোস্ট, ওয়েব কনটেন্ট ও মার্কেটিং রাইটিংয়ে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মানসম্মত ও পাঠকবান্ধব লেখার মাধ্যমে অনলাইন সফলতা গড়াই আমার লক্ষ্য।