কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী
সাধারণত কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী এইজন্য যে, কান আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ।
আমরা প্রতিদিন যে খাদ্যগুলি গ্রহণ করি, সেগুলি আমার শরীরের জন্য উপকারী না অপ্রয়োজনীয় তা আমরা কখনই ভাবিনা। ফলে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের শরীরে দানা বাঁধতে নানা অসুখ-বিসুখ। এসব অসুখ-বিসুখের মধ্যে এমন কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে, যেগুলি নিয়মিত ওষুধ খেয়েও আগের মতো আর স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনা।
সূচিপত্রঃ কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী
কান কিভাবে আমাদের মস্তিস্কে সংকেত পাঠায়যেসব কারণে শ্রবণ শক্তি হ্রাস হতে পারে
কানের সুস্থ্যতার জন্য কোন ভিটামিনের প্রয়োজন
কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী
শ্রবণ শক্তি হ্রাস হলে কি কি অসুবিধা হয়ে থাকে
কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী-শেষ কথা
কান কিভাবে আমাদের মস্তিস্কে সংকেত পাঠায়ঃ
সাধারণত যে কোন শব্দ তরঙ্গই কানের পর্দা কাঁপিয়ে অন্তঃকর্ণে পৌঁছানার পর সেখানে থাকা হাজার হাজার আনু বীক্ষণিক রোমকোষ বা হেয়ার সেলগুলি তখন সেইসব কম্পনগুলিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর ঘটিয়ে তা আমাদের মস্তিস্কে পাঠায়। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সচল ও স্বাভাবিক রাখতে কানের ভেতরে তখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং রক্ত প্রবাহের গতি স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়ে থাকে।
যেসব কারণে শ্রবণ শক্তি হ্রাস হতে পারেঃ
কানের শ্রবণশক্তি হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা যেতেই পারে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন প্রণালী। তবে এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণও রয়েছে। যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল এবং সর্বোপরি দুর্বল হৃদযন্ত্রের কারণে রক্তনালিগুলি যখন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই কানের কার্যকারিতাও ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
আরও পড়ুন ঃ নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়ে কেন, এটা কী কোন রোগের লক্ষণ
এ ছাড়াও কানে খোল (সেরুমেন) জমাট বাঁধা, দীর্ঘ সময় ধরে অথবা হঠাৎ করে উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে আসা, সাধারণত ৬০ বছরের বেশী বয়সী ব্যক্তিদের ধীরে ধীরে উচ্চ কম্পাঙ্কের শ্রবণশক্তি হ্রাস হওয়া, যে কোন কারণে কানের পর্দা ছিদ্র হওয়া, কানের মধ্যকর্ণে বা মধ্যভাগে তরল জমা (এটি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশী হয়ে থাকে), অনেকেই জন্মগতভাবেই শ্রবণশক্তি হ্রাস হওয়া, অনেকের বংশগত কারণেও শ্রবণ শক্তি হ্রাস পেতে পারে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ব্যবহারেও কানের সমস্যা হতে পারে, নির্দিষ্ট কিছু উচ্চমাত্রার ওষুধের কারণেও ককলিয়ার হেয়ার সেলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ক রে থাকে, ত্বকের বৃদ্ধি অনেক সময় কানের গঠনকে সংকুচিত করে থাকে ইত্যাদি।
কানের সুস্থ্যতার জন্য কোন ভিটামিনের প্রয়োজনঃ
সাধারণত কানের সুস্থ্যতার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন-ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ই, ভিটামিন ডি, আয়রন, প্রোটিন ইত্যাদি। অর্থাৎ আমরা সাধারণত যে খাদ্যগুলি গ্রহণ করে থাকি, তাদের মধ্যে অবশ্যই উপরোক্ত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানসমূহ থাকাটা বাঞ্ছনীয়।
কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরীঃ
প্রকৃতপক্ষে আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত আমাদেরকে যে সার্ভিসগুলি প্রদান করে থাকে. তার মূল উৎস কিন্তু উপযুক্ত খাদ্য প্রণালী। প্রতিটি খাদ্যেই কিছু না কিছু ভিটামিন বিদ্যমান। কিন্তু এমন কিছু খাদ্য রয়েছে, যা আমরা সবচরাচর খাইনা বা খেতে চাইনা। আর বর্তমানে সময় এবং উন্নত জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে নানাবিধ ফাস্টফুড। যা অতি উচ্চ মূল্য এবং শরীরের জন্য তেমন প্রয়োজনীয় নই। যাইহোক, শুধুমাত্র কানের সুস্থ্যতার জন্যই নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যেঙ্গের জন্য সঠিক খাদ্যপ্রণালী গ্রহণ করা অতীব জরুরী। সুতরাং কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী তা হলোঃ
বেশী বেশী করে শাকসবজি খেতে তবে। অর্থাৎ গাঢ় সবুজ শাকে ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে বিশেষ করে পালং শাক বা অন্যান্য যে কোন সবুজ শাকে। মূলত ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়াম কানের সংবেদনশীল কোষগুলোকে রক্ষা করে থাকে।
আবার আখরোট, কুমড়াবীজ বা কাঠবাদামে রয়েছে জিঙ্ক ও ভিটামিন ই। তাই কানের সুস্থ্যতার জন্য এ ধরণের খাদ্যগুলি গ্রহণ করাও অত্যন্ত জরুরী এবং প্রয়োজনীয়।
কানের সুস্থ্যতার দিক লক্ষ্য রেখে আপনি প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। কারণ ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি১২ ও প্রোটিনসমূহ, যা আপনার কানের শ্রবণতন্ত্রের স্নায়ুর কার্যকারিতা সচল রাখতে সহায়তা করে থাকে।
আপনার খাদ্য তালিকায় সম্ভব হলে কমলা, জাম্বুরা ইত্যাদি সাইট্রাস ধরণের ফল রাখতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা আপনার কানের যে কোন ধরণের ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।
মাঝে মধ্যে অথবা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে ৭০ শতাংশ কোকোযুক্ত অর্থাৎ জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম। যা আপনার কানের কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।
আরও পড়ুন ঃ গরমে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যেতে পারে
কলাতে পটাসিয়াম থাকায় যা আপনার কানের অন্তঃকর্ণের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে থাকে। এজন্য সম্ভব হলে আপনার খাদ্য তালিকায় কলাও সংযুক্ত করতে পারেন।
আপনার খাদ্য তালিকায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন অর্থাৎ শিম ও ডালজাতীয় শস্যগুলি যোগ করতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপাদানসমূহ।
আবার আপনার খাদ্য তালিকায় লাল চাল বা ওটস রাখতে পারেন, কেননা এসব হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য আপনার কানের ক্ষতি হওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।
শ্রবণ শক্তি হ্রাস হলে কি কি অসুবিধা হয়ে থাকেঃ
মূলত শ্রবণশক্তি হ্রাস হলে যে লক্ষণগুলি প্রতীয়মান হতে পারে, তা নিম্নরূপ, যেমন-
যে কারও কথাই বুঝতে অসুবিধা হওয়া। অর্থাৎ যখন কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বা একাধিক ব্যক্তি যখন একসাথে কথা বলতে থাকেন তখন নিজের কাছে কণ্ঠস্বরগুলি খুব চাপা বা অস্পষ্ট শোনায়।
টেলিফোনে কথা শুনতে অসুবিধা হয়। অর্থাৎ অপর প্রান্তের কণ্ঠস্বর একটু নিম্নমানের হলে অথবা অডিওর মান কমে গেলে কথা বোঝা নিজের নিকট কঠিন হয়ে পড়ে।
শ্রবণ শক্তি হ্রাস হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো কানে ঘন্টার শব্দ, গুঞ্জন বা গুনগুন শব্দ শোনা, যাকে টিনিটাস বলা হয়। অর্থাৎ এসব সমস্যাগুলি এক বা উভয় কানে একটানা বা থেমে থেমে শোনা যায়। যাকে শ্রবণ শক্তি হ্রাস হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
নিজে কানে কম শোনার কারণে বিশেষ করে টেলিফোন বা অডিও ডিভাইসের ভলিউম বাড়িয়ে দেয়া। এতে করে জোরে করে শব্দ দিয়ে নিজে শুনছেন কিন্তু তা অন্যদের বা বাড়ির অন্যদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যে কারও সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা। অর্থাৎ আপনি হয়তো মনে করছেন যে, আপনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছেন, কিন্তু তা অন্যদের নিকট অত্যন্ত যন্ত্রণা বা চরম বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।
কানের শ্রবণশক্তি হ্রাসের এটিও কারণ যে, আপনি যে কোন কথার শুরুটা হয়তো বুঝতে পারেন, কিন্তু মাঝখানে বা শেষে এসে শব্দ হারিয়ে ফেলেন, যার কারণে পুনরায় জিজ্ঞেস করার বিষয়টি একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্রেক সৃষ্টি হয়ে থাকে।
অনেক সময় হঠাৎ করেই এক কানে শোনা যায়, কিন্তু আরেক কানে শোনা যায় না। এটি হতেই পারে, তবে তা যদি ৭২ ঘন্টার মধ্যে স্বাভাবিক বা সম্পূর্ণভাবে কমে না যায়, তাহলে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করাটাই হবে যুক্তিযুক্ত।
কানের শ্রবণশক্তি হ্রাস হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হতে পারে কানে পূর্ণতা অথবা প্রতিবন্ধকতার অনুভূতি উপলব্ধি হওয়া। অর্থাৎ অনেক সময় আমাদের গলায় কিছু আটকে থাকলে যে ধরণের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, যেমন-ঢোক গেলা অথবা চোয়াল নড়াচড়া করতে অসুবিধা হয়ে থাকে। ঠিক একই রকম অনুভূতি কানেও হতে পারে।
কানের শ্রবণ শক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে আরও যে সমস্যা সৃষ্টি হয়, তা হলো যে কোন শব্দের উৎস শনাক্ত করতে অসুবিধা।
কানের শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে আরও একটি কারণ বা লক্ষণ হলো যে কোন কথার পুনরাবৃত্তি করতে বলা, যা একটি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।
কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী-শেষ কথাঃ
মোট কথা কানের সুস্থ্যতা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সুস্থ্য রাখতে দরকার সচেতনতা। আমাদের জীবন যাপনে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবেই এড়িয়ে যায়। যার পরিণাম ঘটে ভয়াবহ একটি ক্ষতির মধ্য দিয়ে। তাই সুস্থ্য থাকাটাই জীবনের বড় একটি চ্যালেঞ্জ, আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দরকার আমাদের সচেতনতা এবং সেইসঙ্গে নিজের কর্তব্যবোধের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন ঃ গরমে ত্বকের যত্নে কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন
যাইহোক, আশাকরি আজকের কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী সহ অন্যান্য বিষয়ে বুঝতে নিশ্চয়ই আপনার অনুধাবন করতে পেরেছেন। আমরা চেষ্টা করি www.mithurajit.com এর পক্ষ হতে যে তথ্যগুলি আপনাদের জানাতে, তা যেন সুনির্দিষ্ট এবং তথ্যবহুল হয়। যদিও বর্ণিত তথ্যগুলি কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নই, তথাপি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে তা যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই পাঠক সমাজের উদ্দেশ্যে তা উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। পরিশেষে দীর্ঘক্ষণ আজকের কানের সুস্থ্যতার জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরী বিষয়ক আর্টিকেলে আপনার সম্পৃক্ততার জন্য অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রদান করছি। বর্ণিত তথ্যের বিষয়ে যে কোন ধরণের পরামর্শ প্রদান করতে চাইলে, তা কমেন্টের মাধ্যমেও আমাদের জানাতে পারেন। আপনাদের মূল্যবান ও সুচিন্তিত পরামর্শগুলি এই ওয়েবসাইটের যাত্রাকে আরও সফল ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url